কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর জল্পনা ছিলই! হচ্ছিল আলোচনাও। আবার তাতেই সিলমোহর দিল শুভেন্দু-সরকার। ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুলশিক্ষার পাঠ্যসূচিতে জায়গা করে নিতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) জীবন ও আত্মবলিদানের অধ্যায়।
বৃহস্পতিবার শ্যামাপ্রসাদ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এছাড়াও একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। শুধু স্কুল নয়, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার বিভিন্ন স্তরেই শ্যামাপ্রসাদের অবদান পড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) । পাশাপাশি তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে পৃথক বই প্রকাশ করবে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদ যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একসময় যুক্ত ছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তথাগত রায়ের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই একটি বই প্রস্তুত হয়েছে। রাজ্য সরকারের ইচ্ছা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে সেই বই প্রকাশ করা। এর পাশাপাশি গ্রন্থাগার দফতরকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বইটি বাংলা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি জিরাট নিয়েও বড় পরিকল্পনা
শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকে ঘিরে শুধু বই বা পাঠ্যক্রম নয়, তাঁর জন্মভিটে হুগলির জিরাট নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার গ্রন্থাগারের মানোন্নয়নের পাশাপাশি একটি মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, শ্যামাপ্রসাদের (Shyamaprasad Mukherjee) জীবন, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আত্মবলিদানকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই বছরব্যাপী কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
‘এতদিন প্রচারের আলোয় আনা হয়নি’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদের (Shyamaprasad Mukherjee) জীবন ও আত্মবলিদান দীর্ঘদিন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও ছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিস্থিতি বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাই ১২৫তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে শুধু অনুষ্ঠান নয়, পাঠ্যক্রম, বই, গ্রন্থাগার এবং মিউজিয়াম, একাধিক স্তরে শ্যামাপ্রসাদকে সামনে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য।
এখন নজর আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচির দিকে। সত্যিই কতটা বদল আসে, কোন শ্রেণিতে কীভাবে শ্যামাপ্রসাদের (Shyamaprasad Mukherjee) জীবন পড়ানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তাঁর ভূমিকা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহল।


