Aaj India Desk, কলকাতা : গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন শেষ হলো। এই পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। বরং এই ভোট ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছে।
এর আগেই ৪ই মের পর থেকে একের পর এক ঘটনা তৃনমূল কংগ্রেসের (TMC) দলে ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তার মধ্যেই ভোটের মাত্র দু’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গীরের নাম ইভিএমে থেকে যায়, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে জাহাঙ্গীর খানের মতো ডাকাবুকো নেতাও আর তৃনমূলের উপর সেভাবে ভরসা রাখতে পারছেন না।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলকে তৃণমূলের (TMC) সবচেয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংগঠনের কড়া নিয়ন্ত্রণ – এই তিনকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছিল ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর রাজনৈতিক প্রচার। কিন্তু ফলতার ঘটনাপ্রবাহ সেই কাঠামোর ভিত নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। যে দল আত্মবিশ্বাসী থাকে, তারা ভোটের ময়দান ছাড়ে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ফলতার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক আত্মবিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। অর্থাৎ ফল যা-ই হোক, ফলতা ইতিমধ্যেই একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শুধু ফলতার ঘটনাই নয়, এর আগে পিছে রয়েছে আরও ঘটনা যা তৃনমূলের ক্রমাগত পতনের দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই অধিকাংশ তৃনমূল বিধায়কের গরহাজিরা তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র, সায়নী ঘোষ, কুণাল ঘোষ, ববি হাকিমের মতো নেতাদের বাদ দিলে বেশিরভাগ নেতা, সমর্থক ও কর্মীদের মুখে নিজের দল নিয়েই উঠে আসছে অভিযোগের পাহাড়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলে আসা দুর্নীতি, গ্রামীণ স্তরে ক্ষোভ, লুটতরাজ এবং সংগঠনের ভিতরে চাপা অসন্তোষ ফুটে বেরোতে শুরু করেছে। যদিও এর একাংশই সুবিধাবাদী মনোভাব থেকে ক্ষমতায় থাকা দলের তোষামোদি করতেই অভ্যস্ত। তবে ধীরে ধীরে তৃনমূলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা ভেতর থেকেই যে ভেঙে পড়ছে তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। এবার আগামী বিধানসভা ভোট পর্যন্ত এই বিরোধী দলের অবস্থান কতটা শক্ত থাকে সেটাই দেখার।


