Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ এর ১ জুন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত রাজ্য পরিচালিত বাসে মহিলাদের জন্য চালু হচ্ছে বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা (Free Bus Service)। এমনটাই জানানো হয়েছে বুধবার রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের তরফে জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে। স্বল্প ও দীর্ঘ, দুই দূরত্বের রুটেই এই সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি, জনপরিষেবায় ব্যবহৃত সমস্ত ধরনের সরকারি বাসেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিষেবার জন্য লাগবে স্মার্ট কার্ড।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে ?
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলা যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ স্মার্ট কার্ড বা পিঙ্ক কার্ড চালু করা হবে। ওই কার্ডে কিউআর কোড, ছবি এবং উপভোক্তার নাম থাকবে।
এই স্মার্ট কার্ড পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিডিও বা এসডিও অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিচয়পত্র এবং সাম্প্রতিক ছবি জমা দিতে হবে।
কোন কোন নথি লাগবে ?
বিনামূল্যে বাস পরিষেবা (Free Bus Service) পেতে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে বেশ কিছু নথির কথা বলা হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে—
- আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC)
- পাসপোর্ট
- প্যান কার্ড
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
এগুলি ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি গ্রহণযোগ্য হবে। এছাড়াও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মীদের সার্ভিস আইডি কার্ডও বৈধ নথি হিসেবে ধরা হবে। তবে এর মধ্যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের কথা বলা হয়নি।
স্মার্ট কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত কীভাবে মিলবে সুবিধা ?
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, স্মার্ট কার্ড তৈরি না হলেও এই পরিষেবা (Free Bus Service) আটকে যাবে না। বরং স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মহিলারা যে কোনও বৈধ ফটো আইডি দেখিয়ে বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বাসের কন্ডাক্টরের কাছ থেকে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা ‘থার্মাল পেপার টিকিট’ নিতে হবে।
রাজ্য সরকারের দাবি, মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ আরও সহজ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলা, ছাত্রী, গৃহবধূ এবং গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু আশঙ্কাও সামনে আসছে। পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যাত্রীচাপ বাড়লে অনেক সময় বাসকর্মীরা অতিরিক্ত ভিড়ের অজুহাতে মহিলা যাত্রীদের তুলতে অনীহা দেখাতে পারেন। বিশেষ করে অফিস টাইমে বা দীর্ঘ দূরত্বের রুটে বাস না থামানো, “সিট নেই” বলে এড়িয়ে যাওয়া কিংবা ‘ফ্রি যাত্রী’ বলে পরোক্ষে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠতে পারে। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে ভর্তুকিভিত্তিক গণপরিবহণ পরিষেবায় এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে এই প্রকল্প সফল করতে শুধু ঘোষণা নয়, কঠোর নজরদারি, পর্যাপ্ত বাস, নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং নিয়ম ভাঙলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


