Aaj India Desk, কলকাতা: ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় আর্থিক অনিয়মের তদন্তে শুক্রবার ভোর থেকে ফের তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইডির একাধিক দল কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ৯টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালায়। ইডির এই হঠাৎ তৎপরতায় ফের উত্তপ্ত রাজ্যের পরিস্থিতি।
কলকাতার তিন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান
সকাল ছ’টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার চক্রবেড়িয়া এলাকায় ব্যবসায়ী অতুল কাটারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলার সঙ্গে যুক্ত অর্থ কোনও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন ED আধিকারিকরা।
একই সময়ে কসবা এলাকায় কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও পৌঁছয় ইডির দল। এই তল্লাশিকে ঘিরে লালবাজারে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে মামলার অভিযুক্তদের কোনও যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ ইডির। পাশাপাশি মধ্য কলকাতার রয়েড স্ট্রিটের একটি হোটেলেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা ওই হোটেলের বুকিং সংক্রান্ত নথি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
মুর্শিদাবাদের ৯ টি জায়গায় অভিযান
মুর্শিদাবাদের কান্দিতে ধৃত অভিযুক্ত শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছয় ইডির আরেকটি দল। যদিও ইডি আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে রয়েছেন। তবে এই ঘটনায় আরও তথ্য খুঁজতে ফের তাঁর বাড়িতে হানা দিলো ইডি। সাথে মুর্শিদাবাদের আরও ৮ টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। গোটা এলাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে।
কেনো ফের অভিযান ?
ধৃত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কলকাতা ও মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে যাঁদের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ আলি ওরফে ম্যাক্স রাজু, সৌরভ অধিকারী ও শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের আত্মীয়রা। তাদের নগদ লেনদেন, সম্পত্তির নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে ইডি। তাদের অনুমান, এই মামলার আর্থিক জাল আরও ছড়িয়ে রয়েছে। সেই জাল গুটিয়ে আনতেই নতুন উদ্যমে কাজে নেমেছে ইডি।


