Aaj India Desk, কলকাতা : বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বাড়ছিলই। তার মধ্যেই নব্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন সার্কুলার (Employees Restrictions) সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সরকারি নীতির সমালোচনা বা তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না। নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কী বলা হয়েছে সার্কুলারে?
সার্কুলারে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞার (Employees Restrictions) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—
- সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা যাবে না
- প্রেস বা সংবাদমাধ্যমে সরাসরি বা পরোক্ষে কোনও সরকারি তথ্য দেওয়া যাবে না
- সংবাদপত্র, সাময়িকী বা সম্প্রচারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্বানুমতি প্রয়োজন
- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ‘Adverse Criticism’ বা বিরূপ সমালোচনা করা যাবে না
- এমন কোনও মন্তব্য বা প্রকাশ করা যাবে না, যাতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের অবনতি হতে পারে
সার্কুলারে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের মুখে লাগাম ?
সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি (Employees Restrictions) নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই সার্কুলার শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা, নাকি সরকারি কর্মীদের মতপ্রকাশের উপর কার্যত ‘মুখে লাগাম’ পরানোর উদ্যোগ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ নির্দেশিকায় শুধু সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য নয়, সরকারের নীতির ‘বিরূপ সমালোচনা’ থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করাও নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারে। বিরোধী মতের কিছু ব্যক্তি একে “বৌদ্ধিক সেন্সরশিপ” বলে ঘোষণা করে এই সার্কুলারের সমালোচনাও করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ধরনের বিধিনিষেধ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬৭ বছর ধরে চালু রয়েছে। প্রথম দিকে সরকারি কর্মীরা নতুন সরকার আসার পর এই বিধিনিষেধ শিথিল হবে ভাবলেও বাস্তবে তার উল্টো প্রতিফলন ঘটেছে। যদিও সরকারের বক্তব্য, দরকারী নথি ও তথ্য প্রকাশ করা এবং প্রশাসনিক কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা থেকে কর্মীদের বিরত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার আগামী দিনে এই ‘সেন্সরশিপ’ কিভাবে কাজ করে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


