Aaj lndia Desk,দক্ষিন ২৪ পরগণা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন( West Bengal Assembly Election 2026) সবচেয়ে রাজনৈতিক নাটকটি মঞ্চস্থ ছিল ফলতা , যাকে কেন্দ্র করে ভোটের দিন থেকে চলছে নানান রাজনৈতিক জল্পনা ,তবে এই বিধানসভার যে সে বিধানসভা না।যে বিধানসভাকে কেন্দ্রে করে ইতিহাসের সেই পুরোনো ‘ফলতা রিফিউজি’ (Falta Refuge)-র স্মৃতিকে একবিংশ শতাব্দীতেও এক চরম বিতর্কিত এর মুখে ফিরিয়ে এনেছে।
আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের (Repoll) কথা আর তার ঠিক দুদিন আগেই ১৯ মে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) হেভিওয়েট প্রার্থী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan) – এর নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আসলে যে রাজনৈতিক ময়দানে নাটকীয়তার বহিঃপ্রকাশ একথা বলার অবকাশ রাখেনা।
বরাবরের ট্র্যাজেডি ফলতার ইতিহাস
১৭৫৬ সালে ইংরেজরা সিরাজের ভয়ে কলকাতায় টিকতে না পেরে ফলতায় এসে আত্মগোপন করেছিল পরে অবশ্য ক্লাইভের সাহায্যে ক্ষমতা পুনর্দখল করেছিল। ২০২৬ শে দাঁড়িয়ে নির্বাচনের এই নাটকীয় অধ্যায় যেন সেই ইতিহাসেরই এক পুনরাবৃত্তির আধুনিক রূপ। এবার ফলতার কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাপে তৃণমূলের ক্ষমতাকে পিছু করতে বাধ্য হতে হয়।জাহাঙ্গীর খানের এই নাটকীয় প্রস্থান ফলতা বিধানসভায় বিজেপির জয়কে কার্যত নিশ্চিত করে দিলেও, এটি নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল যে ফলতা একসময় অত্যাচারিতদের আশ্রয় দিত, সেই ফলতাই আজ দলীয় রাজনীতির হিংসা, বুথ দখল, এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক ডিগবাজির এক কলঙ্কিত সাক্ষী হয়ে রইল।
“পুশপা” থেকে নতুন “রিফিউজি”?
ইতিহাসে ফলতা ছিল বিপদে পড়া মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে ফলতার রাজনৈতিক ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে, উল্টে গেলো বলে উল্টে গেলো এতো পুরো ৩৬০° উল্টে গেলো।যে জাহাঙ্গীর খান নিজেকে সিনে কায়দায় “পুষ্পা” বলে দাবি করতেন যাঁর দাপটে গত এক দশকে বেশি সময় ধরে ফলতায় বিরোধীরা খাতাটা পর্যন্ত খুলতে পারেনি, ভোটলুঠ বুথ দখল এর মতো অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সেখানে সম্পূর্ণ ভোট বাতিল করার মত সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেন , যিনি নিজেই কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে গিয়েছিলেন, আজ তিনিই কিনা এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। একসময় এলাকার ভাগ্যবিধাতা আজ পালাবদলের পর রিফিউজির মতো কোণঠাসা হয়ে পিছু হটতে হলো?
রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ ?
সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট জাহাঙ্গীরকে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সেই অনুমতি পাওয়ার ২৪ টা পরই জাহাঙ্গীরের সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিরোধীদের চাঁছাছোলা বক্তব্য ” আসলে পুষ্প বুঝে গেছে, তার সময় ঘনিয়ে এসেছে , কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাপ , নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি এবং উত্তরপ্রদেশের “সিংহম” খ্যাত আইপিএস অজয় পাল শর্মার কড়া পুলিশি পর্যবেক্ষণের সামনে প্রতিবারের মতো এবারে আর ভোট কায়দা করতে পারবে না। আর যে কারণে আগেভাগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়েছে”। অর্থাৎ বিরোধীরা এই সরে দাঁড়ানোকে আত্মসমর্পণ বলেই দেখছে।


