Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের রিপোলের ঠিক আগে প্রথমে কোর্টে গেলেও মঙ্গলবার নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তৃনমূলের ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। ঝুঁকব না বলে হুঙ্কার দিয়েও এভাবে ঝুঁকে যাওয়ার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব শুরুর মুখে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণেও উঠছে নতুন প্রশ্ন।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় এবং ভোটের আগে গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আবেদন করেছিলেন। ফলতায় পুনর্নির্বাচন ২১ মে এবং ফল প্রকাশ ২৫ মের কথা মাথায় রেখে ২৬ ২৬ মে পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশও দেয় আদালত।
কিন্তু এর পরেও নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। এর নেপথ্যে কি কারণ লুকিয়ে তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
দল পাশে নেই ?
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দীর্ঘদিন ধরেই জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) তৃণমূলের প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে দেখা হত। বিরোধীদের অভিযোগ, এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক চাপের ঘটনায় তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে। যদিও সেই সমস্ত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি অতীতে একাধিকবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জাহাঙ্গির নিজে জনগণের উন্নয়নের ও শান্তির জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানালেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন জাহাঙ্গির খান। এছাড়া বিজেপি জেতার পর থেকেই বিভিন্ন জেলার তৃণমূলের নেতা কর্মীদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একই পরিণতির শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই জাহাঙ্গির আগাম এই সতর্কতা নিলেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
আগামী রিপোলকে ঘিরে ফলতা এলাকায় আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। এর মধ্যেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘটনায় ভোটের আগে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন নজর ফলতার নির্বাচনের ময়দানে। তৃনমূল বাদ পড়তে বিজেপি ও বাম শিবিরের সরাসরি লড়াইতে কোন দল উঠে দাঁড়াবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা।


