Aaj India desk, কলকাতা: ভোটের ফল বেরোতেই গত ৪ তারিখ বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালিয়েছিল বিজেপির কর্মীরা। পার্টি অফিস থেকে শুরু করে দোকানপাট ভাঙ্গা কিছুই বাদ দেয়নি তারা। প্রধানত তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমন হয়। শীর্ষনেতৃত্বের সাবধানবাণী সত্ত্বেও কথা শোনেনি কেউ। সেই তান্ডবের হাত থেকে বাদ যায়নি সাধারণ মানুষও। ভোট পরবর্তী হিংসার (post poll violence) বলি হয়ে অকালেই মৃত্যু হলো এক তরুণের। থেমে গেল ১৪ দিনের লড়াই।
ঘটনাটা কি ঘটেছিল?
গত ৪ ই মে ভোটের ফল বেরোতেই বিভিন্ন জায়গায় বিজয় মিছিল করে বিজেপি। সেই মিছিল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ (post poll violence)। কসবার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে লাহাবাড়ি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এরকমই এক বিজয় মিছিল বেরোয়। সেখানেই স্লোগান দিতে দিতে এলাকার মধ্যে বহু লোককে ছুরির আঘাত করা হয়! বিশেষ করে কিছু তরুণকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন তারা কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেননা। এর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। তাদের সেদিনই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একজনকে ছেড়ে দিলেও বাকি তিনজনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। তাদের একজন অর্ঘ্য দাস (২১) গতকাল মারা যায়। হাসপাতালে রয়েছে আরও দুজন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অর্ঘ্য মামাবাড়িতে মানুষ।পড়াশোনা শেষ করে চেষ্টা করছিল কোনো কাজে ঢোকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ
অর্ঘ্যর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছয় নেমে আসে। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ যেতেই পুলিশ ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন সকলে। জানা গেছে আততায়ীদের নাম জিতেন্দ্র প্রসাদ সিং, কানহাইয়া সিং এবং গোপাল সিং। ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা বিষয়টি দেখে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু এখনও অব্দি আততায়ীরা অধরা। উল্টে বারবার থানায় যাওয়ার জন্য পুলিশ অভিযোগকারীদের উপরেই লাঠিচার্জ করে। এলাকাবাসীর দাবি ফাঁসিতে চড়াতে হবে ওই তিন অভিযুক্তকে। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা (post poll violence) নিয়ে এর আগে অনেক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু খাস কলকাতার বুকে এমন মৃত্যু প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বকে। অনেকের প্রশ্ন ‘হিন্দু বিপদে আছে ‘ এই প্রচার চালিয়ে আসলে বাঙালিকে বিপদে ফেলে দেওয়া হলো।


