Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের ফলাফলের পর থেকেই কিছুটা মনখারাপের মধ্যেই ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। এর আগে একটি ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটিও করেন তিনি। তবে এর মধ্যেই ফের তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। এক জনপ্রিয় অভিনেতা তাঁকে নিয়ে একটি ভিডিও করার পর দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পাল্টা আক্রমণ শানালেন সায়নী।
কার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক ?
অভিনেতা জিতু কমল সম্প্রতি একটি ভিডিও এবং ফেসবুক লাইভে সায়নী ঘোষকে (Sayani Ghosh) ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল রাজনৈতিক অবস্থান বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিতর্ক শুরু হয়। এরপরেই পাল্টা জবাব দেন সায়নী।
পাল্টা জবাব সায়নীর
সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh) তাঁর পোস্টে দাবি করেন, একসময় একটি সমস্যায় পড়ে জিতু কমল ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী থানার থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সময় তিনি সাংসদ ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, থানায় গিয়ে অভিনেতা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচিতি দেখিয়ে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন।পোস্টে সায়নী আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিয়ে অভিনেতাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। জিতু কমলকে ‘সুবিধাবাদী’ বলেও আক্রমণ করেন সায়নী ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সাফল্যের পর অভিনেতার আচরণ বদলে গিয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মধ্যেও তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জিতু কমলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে সায়নী লেখেন, “বামের নীতি কথা বলে, তৃণমূলের খেয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে বেঁচে থাকতে চান” এই ধরনের মানুষের প্রতিটি বার্তার উত্তর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না। পাশাপাশি পোস্টের শেষ অংশে সায়নী ঘোষ লেখেন, ক্যামেরার সামনে অতিরিক্ত মন্তব্য করতে করতে জিতু কমল “টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত” হয়ে যেতে পারেন।
তবে, এখনও পর্যন্ত জিতু কমলের তরফে সায়নীর দীর্ঘ পোস্টের সরাসরি কোনও বিস্তারিত জবাব সামনে আসেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়ছে। জিতু কমল ও সায়নী ঘোষের সংঘাত ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত আক্রমণের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। জিতু কমলের ‘পাল্টিবাজ’ মন্তব্যকে তৃণমূল শিবির রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবেই দেখছে। এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র দুই পরিচিত মুখের ব্যক্তিগত মতবিরোধ নয়, বরং টলিউড ও বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতিফলন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


