ঐ আবাগীর বিটিইইই হারামজাদীইইই, কোতি গেলিইই ভাইটাকে ফেল দিয়ে,,,
এক্কা দোক্কা খেলতে থাকা সাবিনা তার বন্ধুদের থেকে এক দৌড়ে বাড়িতে এসে মাটিতে পড়ে থাকা ধুলো মাখা ভাইটাকে কোলে তুলে নিয়ে মা কে বলে,
ডাকছিলা ক্যানে?
তপ্ত গনগনে আগুনের সামনে পাটকাঠির ঝলসে যাওয়া ধূমায়িত ঘামে ভেজা মুখটাকে ন্যাতানো শাড়ির আঁচলে মুছে নিয়ে, চিৎকার করে বলে ওঠে
সকাল থেকে দেখা নাই কুথায় মরিস,,,?
ক্যানে খেলতে গেছিলাম,,, বলে ওঠে সাবিনা।
সারাদিন খেলা আর খেলা,,, আমিনা বিবি চিৎকার করে ওঠে। সাত সকালের তীব্র রোদে কালো মুখের তামাটে রঙ মাটির আগুনে আরো ঝলসে উঠে আরোও উতপ্ত হয়ে ওঠে।
ঢ়াড়ের ফুটিফাটা মাটির শুকনো ফাটলগুলো আরো মাটি ফাঁক করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ক ফোঁটা বৃষ্টির আশায়। গাছগুলো ভীষন ক্লান্ত হয়ে মাথা নীচু করে অতি কষ্টে দাঁড়িয়ে আছে। ঢ়াড়ের মাটি বড়ো শক্ত আর শুকনো। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে রস সব শুকিয়ে দেয়। শুকনো হয়ে যায় সারা গ্রাম।
আকাশের সূর্য জানান দিয়ে যায় তার তেজ কতোখানি।
উঠোনের এক কোনায় কাঠের উনুনে টগবগ করে ফুটতে থাকা গরম ভাত ধৌঁয়া উড়িয়ে গন্ধ ছড়ায়, ধৌঁয়ার কুন্ডলী ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির চারপাশে।
সাবিনার শৈশব একদিন ঐ আগুনের ধৌঁয়ার কুন্ডলী র মতো উড়ে যাবে।।
এক্কা দোক্কা খেলাটা বাকি রয়ে গেলো এবারের মতো।।


