Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ফের পুলিশি অভিযান রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক পরেশরাম দাসের দাদা। বিজেপি কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
শুক্রবার রাতেই নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ক্যানিং থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মিঠাখালি এলাকায় ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল (TMC) নেতা উত্তম দাসের বাড়িতে পৌঁছয়। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় বাধা দেওয়া হয়। এলাকায় ভয় দেখানো, হুমকি এবং দুষ্কৃতী কার্যকলাপের অভিযোগও রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে।
গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের সন্ধ্যায় ক্যানিং এলাকায় গুলি চলার ঘটনায় এক বিজেপি কর্মী জখম হন। সেই ঘটনার তদন্তে উত্তম দাসের নাম সামনে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, মারধর, হুমকি এবং প্ররোচনার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
অন্যদিকে ধৃতের পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই পুলিশ বাড়িতে ঢুকে উত্তম দাসকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের মহিলা সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।পরিবারের দাবি, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক পরেশরাম দাস। তিনি বলেন, “রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বদলে সকালে থানায় ডাকতে পারত। যেভাবে মহিলাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত মারধরের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। শনিবার ধৃত উত্তম দাসের শারীরিক পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ারও আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


