Aaj India Desk, কলকাতা : গত শনিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই নতুন বিধানসভা স্পিকার নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়।
কে হলেন নতুন স্পিকার ?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu)। স্পিকার পদের জন্য তাঁর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান দিলীপ ঘোষ। প্রস্তাবকদের তালিকায় ছিলেন শঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মণ এবং অগ্নিমিত্রা পাল সহ আরও কয়েক জন বিধায়ক। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম স্পিকার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তিনি।
আগের অপমানের জবাব দিলেন শুভেন্দু
স্পিকারের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের বক্তব্য রাখেন। তিনি নাম না নিয়েই খোঁচা দিয়ে বলেন, “আগামী দিনে বিধানসভা এক জন ভাল স্পিকার পাবে, যিনি বিরোধী দলনেতাকে সাড়ে ১১ মাস বাইরে রাখবেন না।” এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিকবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। মোট পাঁচবার সাসপেনশনের জেরে প্রায় সাড়ে ১১ মাস তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হয়। বৃহস্পতিবারের মন্তব্যে সেই অভিজ্ঞতারই উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন স্পিকারের হাত ধরে বদলাবে বিধানসভার রাজনীতি?
নতুন স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুর (Rathindranath Basu) নাম ঘোষণার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভার রাজনীতিতে কি এবার কিছুটা পরিবর্তন আসতে চলেছে? গত কয়েক বছরে শাসক-বিরোধী সংঘাত, সাসপেনশন এবং হট্টগোল বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যও রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর কথা অনুযায়ী, আগামী দিনে বিধানসভায় নতুন স্পিকারের হাত ধরে বিরোধী দলনেতাদের সম মর্যাদা ও সহনশীল পরিবেশ দেওয়া হবে। সুতরাং বিরোধী হলেই বিধানসভায় আক্রমণের ও শাস্তি দেওয়ার মতো আগের ঘটনাগুলি কমে আসতে পারে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu) পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। সঙ্ঘ পরিবারের সংগঠন থেকে উঠে এসে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। দলীয় কর্মীদের প্রত্যাশা, তাঁর হাত ধরেই পূর্বের বিধানসভার তিক্ত রাজনীতির বদল ঘটবে। এমনই আভাস মিলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেও। এবার সেই আশা কতটা পূরণ হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


