Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের সীমান্তে আর আটকে থাকবে না আলুর ট্রাক। দীর্ঘদিনের বিতর্ক, কৃষকদের ক্ষোভ এবং ব্যবসায়ীদের চাপের পর অবশেষে বদলাতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্য রপ্তানি (Potato Export) নীতি। আলু-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানোর উপর আগের সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৮ মে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হবে।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্য থেকে আলু-সহ একাধিক কৃষিপণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানোর (Potato Export) ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি ছিল, অতিরিক্ত রপ্তানির ফলে রাজ্যে কৃষি পণ্য সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে।
স্বস্তি পাবেন চাষিরা ?
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বহু আলু চাষি ও ব্যবসায়ী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অন্য রাজ্যে বেশি দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। তবে এই নতুন সিদ্ধান্তে অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন চাষিরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও দাবি করেন, আগের সরকারের নীতির ফলে কৃষকদের ভোগান্তি বেড়েছিল। নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাড়তে পারে কৃষি পণ্যের দাম ?
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছু নেতিবাচক আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ। রাজ্য থেকে বড় পরিমাণে আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাইরে যেতে শুরু করলে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে সত্যিই সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে খুচরো দামে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় চাহিদা বেড়ে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হতে পারে। পাশাপাশি মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। ফলে আগামী দিনে রপ্তানির (Potato Export) স্বাধীনতার পাশাপাশি বাজারে নজরদারি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণও সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।


