Aaj India Desk, কলকাতা: বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার রাজ্যে পশুহত্যা ও পশুবলি নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের (High Court) নির্দেশ মেনেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আর কোনওভাবেই প্রকাশ্যে বা রাস্তার ধারে পশুহত্যা করা যাবে না। এই নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্ত আরোপ করা হয়েছে-
• ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, মহিষ- এই ধরনের কোনও প্রাণী বলি করা যাবে না উপযুক্ত শংসাপত্র বা নির্দিষ্ট সরকারি সার্টিফিকেট ছাড়া।
• পশুহত্যার আগে পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। যেমন-প্রাণীটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে, অথবা প্রাণীটি প্রজননের কাজে অযোগ্য হয়ে পড়তে হবে। এছাড়াও বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা কোনও কঠিন রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও সেই প্রাণীর ক্ষেত্রে শংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে।
• সরকার আরও জানিয়েছে, যদি কোনও আবেদনকারীকে এই শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করা হয়, তাহলে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।
• এছাড়াও, শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা গুলোতেই পশুবলি করা যাবে। কোনও খোলা জায়গা, রাস্তার ধারে বা জনসমক্ষে পশুহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
• নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তির ৬ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে, অথবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দুটো শাস্তিই একসঙ্গে হতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্দেশিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কার্যকর করার জন্য পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি পশুচিকিৎসকের অনুমোদিত আধিকারিকদের পরিদর্শনে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।


