Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : NEET UG 2026 প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয় পরীক্ষা। ঘটনার তীব্রতায় বিক্ষোভে নামেন বহু ছাত্র ছাত্রী। এবার সেই মামলায় রাজস্থানের জামওয়া রামগড় এলাকা থেকে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ধৃতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বিজেপি যুব শাখার নেতা বলেই তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, যে PDF ফাইলটি অভিযুক্তদের হাতে আসে, তাতে প্রায় ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১২০টি প্রশ্ন মূল NEET-UG 2026 পরীক্ষার সঙ্গে মিলে যায়। ওই প্রশ্নপত্রই WhatsApp এবং Telegram-এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মহারাষ্ট্রের নাসিক, রাজস্থানের সিকার ও জয়পুর-সহ একাধিক জায়গা থেকে এই চক্র পরিচালিত হচ্ছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, দীনেশ বিওয়াল, বিজেপি যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজস্থানের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এত বড় পরীক্ষাকেন্দ্রিক দুর্নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও যোগ রয়েছে কি না তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও বিজেপির তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ভারতে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET গত এক দশকে একাধিকবার প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে বিতর্কে এসেছে। ২০১৫ সালে অল ইন্ডিয়া প্রি মেডিক্যাল টেস্টে ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করে সংগঠিত নকলচক্র ধরা পড়ে। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট গোটা পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তী বছরগুলিতেও বিভিন্ন রাজ্যে ‘সলভার গ্যাং’, পরীক্ষাকেন্দ্রভিত্তিক ফাঁস এবং ইনভিজিলেটর জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে।
২০২৪ সালে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বড়সড় প্রশ্নফাঁস কাণ্ড সামনে আসে। সেই সময় সিল করা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে ছবি তুলে বাইরে পাঠানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বিতর্কের জেরে তৎকালীন NTA ডিরেক্টর জেনারেল সুবোধ কুমার সিংকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ বর্তমানে তিনিই ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব।
বারবার প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের জেরে ক্রমাগত নষ্ট হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মেডিক্যাল আসনের তীব্র প্রতিযোগিতা, বিপুল আর্থিক লেনদেনের সুযোগ এবং সংগঠিত চক্রের সক্রিয়তাই এই দুর্নীতির বড় কারণ। পাশাপাশি পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর, স্থানীয় স্তরে যোগসাজশ এবং দ্রুত শাস্তির অভাবও এই ধরনের অপরাধকে বাড়তে সাহায্য করছে। ফলে শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাই নয়, মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এবার প্রশাসন এই নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা সেটাই দেখার।


