Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: আরজিকর (RGKar) কাণ্ডে নতুন মোড়। এবার তিলোত্তমার মৃত্যুর ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন তাঁর বাবা। প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে (Somnath Dey) ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে (Sanjib Mukherjee) জেরা এবং গ্রেফতারের আবেদনও করা হয়েছে শিয়ালদহ আদালতে।
তিলোত্তমার বাবার অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের কথা উঠলে তা বন্ধ করে দিতে তড়িঘড়ি দেহ দাহের ব্যবস্থা করেছিলেন এই তিনজন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পরিবারের তরফে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যাতে সিবিআইকে এই তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্তরা তিলোত্তমার দেহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং পরিবারের কাছ থেকে লিখিয়ে নেয় যে সরকারের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, প্রথমে সিবিআইয়ের তদন্তে ভরসা থাকলেও পরে সেই বিশ্বাসে ধাক্কা লাগে।
অন্যদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, এই তিনজনকে জেরা ও গ্রেফতারের যে আবেদন করা হয়েছে, তা আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ জুন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ডাক্তারি পড়ুয়া তিলোত্তমার দেহ। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর সেদিনই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অভিযোগ, সেই দেহ দ্রুত সৎকার করার পিছনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। এমনকি শ্মশানের দাহ সংক্রান্ত নথিতেও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের সই ছিল বলে দাবি।


