Aaj India desk, নয়াদিল্লি: দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ সংযমের নিদান দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ , তেলের চড়া দাম এবং ডলারের বিপরীতে টাকার পতন ঠেকাতে এই অনুরোধ। এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল রক্ষা করা। তার মধ্যেই ছিল এক বছর সোনা (gold) না কেনার কথা। বলেছিলেন এভাবেই দেশপ্রেম দেখানো যেতে পারে। নরেন্দ্র মোদীর কথায় দেশবাসী তাদের দেশপ্রেম দেখানো শুরু করেছেন। গত তিনদিনে সোনা বিক্রি কমেছে ব্যাপক হারে। এর সাথেই সরকারের নতুন নীতিতে মাথায় হাত পড়ে গেল সোনা ও রত্ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের।
সরকারের মতুন নিয়ম কি?
সোনা (gold) ও রুপোর উপর আমদানি কর বাড়ানোর কথা বলেছে কেন্দ্র। নতুন করের হার ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে সোনার (gold) দাম বেড়েছে ৯ হাজার টাকার বেশি। রূপো বেড়েছে ১৬ হাজার টাকার বেশি।। গত তিনদিনে মোদীর ভাষণের পর এমনিতেই বিক্রি কমে গেছিল। নতুন হার ঘোষণা হওয়ার পরে গয়না শিল্পের শেয়ারগুলি পড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি শেয়ার পড়ে যায় কল্যাণ জুয়েলার্স, পিসি চন্দ্র জুয়েলার্স, সেনকো গোল্ড এবং টাইটানের মতো সংস্থাগুলির।
আশঙ্কা কোথায়?
অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশনের মতো ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির মতে, আকস্মিক সোনা (gold) কেনা বন্ধ হলে দেশের স্বর্ণ শিল্পে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধস নামতে পারে। পাশাপাশি সোনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩.৫ কোটি কারিগর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের রুটিরুজি ও বেতন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি কর বেড়ে যাওয়ায় সোনা (gold) ও রুপোর দাম আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গয়নার ব্যবসায়। কাঁচামালের খরচ বাড়লে সংস্থাগুলির মুনাফার উপর চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদাও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নরেন্দ্র মোদীর দেশপ্রেম কি আদৌ দেশের কোনো উন্নতি করবে নাকি অর্থনীতিকে তলিয়ে নিয়ে যাবে উঠছে সেই প্রশ্ন।


