Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বাংলায় মহিলাদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) নিয়ে চলছিল জল্পনা। তবে সব বিতর্ক ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। বর্তমানে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যেখানে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়, সেখানে নতুন প্রকল্পে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ করা হচ্ছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে এই সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীদের একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
মাসে ৩ হাজার টাকা পেতে মানতে হবে কিছু শর্ত।
- অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) সুবিধা পেতে আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- পাশাপাশি আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হওয়াও বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সীমার বেশি আয় হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
- এছাড়াও আবেদনকারীর নামে পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না বলে জানা গিয়েছে।
কোন কোন নথি লাগবে?
আবেদনকারীর পরিচয়, আয়, বাসস্থান এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসনের একাংশ। আবেদন করতে লাগবে –
- বৈধ রেশন কার্ড
- আধার কার্ড ( আধারের সঙ্গে একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর সংযুক্ত থাকাও জরুরি। আবেদন প্রক্রিয়ার OTP যাচাই, আপডেট সংক্রান্ত বার্তা এবং ভবিষ্যতের যোগাযোগের জন্য এই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে)
- আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক।
- ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রতিলিপি
- পরিবারের আর্থিক অবস্থার প্রমাণ হিসেবে আয়ের শংসাপত্র বা Income Certificate
- বসবাসের প্রমাণপত্র
আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি নথি বিস্তারিতভাবে স্ক্রুটিনি করা হবে। কোনও তথ্য ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ হলে আবেদন বাতিলও হতে পারে। তাই আবেদন শুরুর আগেই সমস্ত নথি আপডেট ও প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জুনের শুরু থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলা এর আওতায় আসতে পারেন বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ হয়নি। ফলে চূড়ান্ত নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই নজর রয়েছে।


