Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও বেআইনি কারবার রুখতে কড়া অবস্থান নিল নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হবে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। গরু পাচার, কয়লা ও বালি পাচার, সিন্ডিকেট রাজ থেকে শুরু করে সরকারি জমি দখল, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, রাজ্যে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত এলাকা বা রাজ্য সড়কে এই ধরনের অভিযোগ যাতে আর না ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে। পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
সাথে কয়লা ও বালি পাচার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নির্মাণ ও প্রোমোটারি ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। সরকারি সূত্রে দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে চাপমুক্তভাবে ব্যবসা বা বাড়ি তৈরির কাজ করতে পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে নতুন সরকার। বৈঠকে সরকারি জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
“দুর্নীতি মুক্ত হবে এই সরকার”, এই বার্তাই প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে জেলা প্রশাসনের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্দেশ দেন, যেখানেই দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ও অর্থ বণ্টনের উপরও সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে আটকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধায়কদের শপথের পর জেলা শাসকরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে থমকে থাকা কাজের তালিকা তৈরি করবেন। এর পর দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। নারদা স্টিং অপারেশন মামলায় অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নাম জড়িয়েছিল এবং স্টিং ভিডিওটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যাঁর নিজের বিরুদ্ধেই একসময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে বিরোধীদের মধ্যে।
তবে আইনি দিক থেকে এখনও পর্যন্ত নারদ মামলায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আদালতে কোনও চূড়ান্ত দোষ প্রমাণ হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, তা শেষ পর্যন্ত বোঝা যাবে এই নীতিগুলির বাস্তব প্রয়োগের উপরই।


