Aaj India Desk,কলকাতা: রাজ্যের অন্যতম দুই জনপ্রিয় প্রকল্প “লক্ষ্মীর ভান্ডার” ,” যুব সাথী ” ভোট পরবর্তীকালে নতুন সরকারের জয়লাভের পরেই সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয় আগের চলতি প্রকল্পগুলো অস্তিত্ব নিয়ে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ” লক্ষীর ভান্ডার এর ১৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০০ টাকা পাবো তো ?” আজকের প্রথম ক্যাবিনের বৈঠকে এই সংশয় দূর করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
তিনি স্পষ্ট করে দেন আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না। অর্থাৎ তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং যুব সাথী দুই প্রকল্পে থাকছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হয় লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প।এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পেয়ে আসছেন।অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি ( Bharatiya Janata Party)-র প্রকাশিত সংকল্পপত্রে এই অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজেপির দাবি ছিল, সরকারে এলে মহিলাদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করে মাসিক ৩,০০০ টাকা করা হবে। কার্য তো সেই সিদ্ধান্তে অনর বর্তমান সরকার।
তবে অন্যদিকে আরেক জনপ্রিয় প্রকল্প “যুব সাথী” ভোট প্রাক্কালে বঙ্গের রাজনীতিতে দাপিয়ে বেরিয়েছিল এই প্রকল্প, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আর্থিক অনুদান । মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা ছিল এই প্রকল্পের আওতায় ।
বিধানসভা ভোটের আগে BJP-র পক্ষ থেকে যুব সমাজ ও কৃষকদের জন্য একাধিক বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলের সংকল্পপত্র অনুযায়ী, স্নাতক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, যাঁরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের সহায়তার জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু যুব সমাজ নয়, কৃষকদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছিল বিজেপি তরফে। জানানো হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কৃষাণ যোজনা ( PM-Kisan Samman Nidhi) প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া বার্ষিক ৬,০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে আরও ৩,০০০ টাকা যোগ করা হবে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা বছরে মোট ৯,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
নতুন সরকার গঠনের পর এখন সেই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের দিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের যুবক-যুবতী ও কৃষকদের।


