Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে রাজভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর.এন.রবি (R. N. Ravi)। এদিন গেরুয়া পোশাকে মঞ্চে দেখা যায় শুভেন্দুকে। প্রসঙ্গত, ভারতে যে কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল একজন মুখ্যমন্ত্রীকে সাধারণত দু’ধরনের শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথমটি হল পদের শপথ এবং দ্বিতীয়টি গোপনীয়তার শপথ।
প্রথমে শুভেন্দু অধিকারী পদের শপথ নেন। বলেন “আমি শুভেন্দু অধিকারী ঈশ্বরের নামে শপথ করিতেছি যে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতের সংবিধানের প্রতি আমি সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও আনুগত্য বজায় রাখিব। আমি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখিব। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার সমস্ত দায়িত্ব সততা ও বিবেক অনুযায়ী পালন করিব। কোনও ভয়, পক্ষপাত কিংবা বিদ্বেষ ছাড়া সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি সংবিধান ও আইন মেনে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করিব।”
এরপর তিনি গোপনীয়তার শপথ নেন। সেখানে বলেন “আমি শুভেন্দু অধিকারী ঈশ্বরের নামে শপথ করিতেছি যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার কাছে যে কোনও বিষয় আলোচনার জন্য আসিবে অথবা যাহা আমি অবগত হইব, তাহা দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকট প্রকাশ বা জানাইব না।”
ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই দুই শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সংবিধানের থার্ড শিডিউলে এই শপথের নির্দিষ্ট মানেও উল্লেখ রয়েছে। শুধু শুভেন্দু অধিকারী নন, এদিন আরও পাঁচজন মন্ত্রী হিসেবেও শপথ নেন। তাঁরা হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রমানিক, অশোক কীর্তনিয়া। একই নিয়ম মেনেই তাঁদেরও শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
যদিও, ভোটের সময় বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছিল যে তারা শুধুমাত্র হিন্দুত্ব ও সনাতনী রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে তারা ‘বহিরাগত’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সব ধর্ম, জাতি ও শ্রেণির মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা। কারণ সংবিধানের শপথ নিয়েই তিনি দায়িত্বে এসেছেন, আর সেই শপথ অনুযায়ী কোনও পক্ষপাতিত্ব না রেখে নিরপেক্ষ থেকে সকলের জন্য কাজ করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাই এখন দেখার যে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তিনি সত্যিই সকলের জন্য সমানভাবে কাজ করতে পারেন কি না।


