Aaj India Desk, কলকাতা: গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলে ২০৭টি আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর দেয়। আজ পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ব্রিগেডে আয়োজিত এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিং চৌহান, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতা।
কারা কারা নিলেন শপথ ?
তবে শুধু শুভেন্দু অধিকারী নয়, তার পাশাপাশি এই দিন আরও পাঁচজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁরা হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ফলে প্রথম দফায় মোট ছ’জনকে নিয়েই শুরু হল নতুন মন্ত্রিসভা।
বাকিরা শপথ নেবেন কবে ?
শপথের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বাকি মন্ত্রীরা কবে শপথ নেবেন? বিজেপির (BJP) বিপুল জয়ের পর এত ছোট আকারে মন্ত্রিসভা গঠন কেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক সূত্রের একাংশের মতে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি এবং তাঁর নির্ধারিত সফরসূচির কারণেই প্রথম দফার শপথ সংক্ষিপ্ত রাখা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের মধ্যেই দিল্লি ফেরার কর্মসূচি ছিল। সেই কারণেও অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার সব নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে আপাতত প্রতিনিধিত্বমূলক ভারসাম্য রেখেই প্রথম দফার মন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে।
কোন সমীকরণে প্রথম দফার মন্ত্রী?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম তালিকায় বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দিলীপ ঘোষকে সিনিয়র মুখ হিসেবে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালকে মহিলা প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিশীথ প্রামাণিক। তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। ফলে বিজেপি (BJP) প্রথম দিন থেকেই সামাজিক সমীকরণে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রথম দফার শপথ সম্পন্ন হলেও এখন রাজনৈতিক মহলের নজর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার দিকে। বাকি মন্ত্রীদের নাম কবে ঘোষণা হবে এবং দ্বিতীয় দফার শপথ কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।


