Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও। টলিপাড়ার ভিতরে এখন দল বদল, ক্ষোভ আর বিক্ষোভ-সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইমপা, অর্থাৎ প্রযোজকদের সংগঠনকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ছে। বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের একাংশ ইমপার অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, বর্তমান ইসি কমিটি ভেঙে নতুন করে নির্বাচন করতে হবে। এমনকি গেরুয়া আবহ তৈরি হতেই ইমপার অফিস গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করার ঘটনাও সামনে এসেছে।
প্রতিবাদকারীরা ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগও দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়। সেই বৈঠকে ঠিক হয়েছে আগামী ২২ মে জেনারেল মিটিং হবে বলে জানান পিয়া সেনগুপ্ত। গত দু’দিন ধরে ইমপার অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যায়। বিক্ষুব্ধ প্রযোজকরা মঙ্গলবার বৌবাজার থানায় অভিযোগ করেন, ইমপার অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরিয়ে ফেলা হতে পারে। অন্যদিকে একই দিনে পিয়া সেনগুপ্তও অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে থানায় অভিযোগ জানান।
বুধবার সদস্যদের বৈঠক চলাকালীন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ইমপার অফিসে পৌঁছয়, যা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। প্রযোজক ও পরিবেশক শতদীপ সাহার কথায়, বহু বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে ক্ষোভ জমে ছিল। কিন্তু ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারতেন না। ছবি মুক্তির সময়সূচি নিয়েও অনেক অসন্তোষ ছিল। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিজেপি সমর্থক বলে দাগিয়ে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এখন অনেকে খোলাখুলি কথা বলার সাহস পাচ্ছেন। এখন নজর আগামী ২২ মে-র জেনারেল মিটিংয়ের দিকে। সেখানে বর্তমান কমিটিকে রাখা হবে, নাকি নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাই দেখার।
এদিকে শুধু প্রযোজক সংগঠন নয়, টেকনিশিয়ান মহলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর গেটেও বিজেপির পতাকা দেখা গিয়েছে। সদ্য হওয়া নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী ও রুদ্রনীল ঘোষ জয়ী হয়েছেন। তাঁরা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নতুনভাবে সাজানোর কথা বলছেন। রুদ্রনীল ঘোষের দাবি, টলিপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ হওয়া দরকার। অন্যদিকে প্রযোজক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ চাইছেন বিশ্বাস ব্রাদার্সদের প্রভাব শেষ হোক এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আসুক। তবে শেষ পর্যন্ত টলিপাড়া রাজনীতির প্রভাব থেকে কতটা দূরে থাকতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


