নয়াদিল্লি: একদিকে চলছে ১৫ বুথে রিপোলিং। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার, সহকারী ও অন্যান্য গণনাকর্মী হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার (Vote Counting Case) শুনানি। শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে তৃণমূলের দায়ের করা গণনা সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং নির্বাচন কমিশনের হয়ে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রথমে ক্ষমা চান কপিল সিব্বল। এরপর তিনি বলেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের যে নোটিস পাঠিয়েছিল, তা তারা জানতে পারেন অনেক দেরিতে, ২৯ এপ্রিল। পাশাপাশি কমিশনের এই আশঙ্কা, প্রতিটি বুথে অশান্তি বা সমস্যা হতে পারে তা কোন ভিত্তিতে করা হচ্ছে? বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন সিব্বল। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মী হিসেবে আগে থেকেই মাইক্রো অবজার্ভাররা রয়েছেন। তাহলে আবার গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগ কেন?
কি বললেন বিচারপতি?
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করা বাধ্যতামূলক, এমন কোনও নিয়ম কোথায় রয়েছে? জবাবে সিব্বল জানান, সাধারণত এই ধরনের তথ্য দলগুলিকে জানানো হয়ে থাকে। এরপর বিচারপতি স্পষ্ট করেন, কাউন্টিং সুপারভাইজার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য, দু’ধরনের কর্মীই থাকতে পারেন। ফলে এই বিকল্প যখন নিয়মেই রয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনকে বিধিবিরোধী বলা যায় না।
পাশাপাশি বিচারপতি নরসিংহ বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের আলাদা করে দেখার মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাঁর মতে, উভয়ই আসলে সরকারি কর্মচারী, তাই এই বিভাজনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
কমিশনের নির্দেশিকাই বহাল
দু-পক্ষের সওয়াল জবাবের পর শীর্ষ আদালত জানায়, তারা এখনই এই সংক্রান্ত মামলায় কোনও নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন না। সুতরাং, বহাল থাকলো ১৩ এপ্রিল কমিশনের জারি করা নির্দেশিকাই। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী আদালতে জানান, গণনার (Vote Counting Case) পুরো প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং অফিসারেরই সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এবং তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারের আধিকারিক। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন, ফলে কোনও কারচুপির আশঙ্কা ভিত্তিহীন বলেই দাবি করা হয়। কমিশন আরও জানায়, ১৩ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই গণনা প্রক্রিয়া চলবে।


