30 C
Kolkata
Monday, April 27, 2026
spot_img

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই কাঠগড়ায় শুভেন্দু ? কী ঘটল আদালতে ?

Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কলকাতা হাই কোর্টে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একটি জনস্বার্থ মামলা। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রার্থী পদ বাতিলের আবেদন করে সেই মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে স্পষ্ট রায় ঘোষণা করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলাকারী অভিযোগ করেন, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভবানীপুর ও মেদিনীপুরের জনসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। তিনি প্রচারে বেরিয়ে একাধিকবার  “ধর্মনিরপেক্ষতা ধ্বংস হোক”, “নাস্তিকতা ধ্বংস হোক” এবং “আমি হিন্দুদের বিধায়ক, হিন্দুরা আমাকে নির্বাচিত করেছে” জাতীয় মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করে মামলা করা হয়।

তবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, মূলত হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সংহতি গড়ে তুলতে তিনি এই বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি প্রায়ই দাবি করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা বিপন্ন এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু তোষণের নীতি অনুসরণ করছে। তাঁর মতে, নিজেকে ‘সনাতনী’দের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতেই এই কথাগুলি বলেছেন।

শুভেন্দুকে স্বস্তি দিয়ে শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল আইনি ভিত্তি। পিটিশনে সংবিধানের নির্দিষ্ট কোনো ধারা উল্লেখ না থাকায় আদালত মামলাকারী পক্ষকে জিজ্ঞাসা করে যে, প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে করা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় মামলা খারিজ হয়।

উল্লেখ্য, এই রায়ের ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেন বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিধানসভায় তিনি একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় নন্দীগ্রামে ভোট সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে আগামী ২৯ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রটিতে ভোট। এই কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দুর প্রার্থিতা বজায় থাকায় এই আসনে ভোট যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের অংশ ছিল। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো আসনে হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণ ঘটিয়ে তৃণমূলের ঘাঁটিতে চাপ তৈরি করতে এই ধরনের মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হলেও রাজনীতির মাঠে এই বক্তব্য জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই সমস্ত বক্তব্য আদৌ কতটা কাজে এলো, তা বোঝা যাবে ৪ই মে, ভোটের ফল প্রকাশের দিন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন