Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বেশ কয়েকদিন ধরেই দলের ভিতরেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন রাজ্যসভার AAP সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadda)। সেই সময়েই দলে ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শুক্রবার সমস্ত জল্পনা সত্যি প্রমাণ করে দলের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যসভার সাংসদ সহ বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadda) জানান, “আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ ছিলাম। এখন সেই দল থেকে দূরে সরে সরাসরি ‘জনতা’র কাছে যাচ্ছি।” তিনি অভিযোগ করেন, “১৫ বছর ধরে যে দলকে গড়েছি, সেই দল এখন আর আগের মতো নেই। AAP তার মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে “দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী” হয়ে উঠেছে।” চাড্ডার দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান কেন্দ্র সরকার জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে অমিত শাহের ভূমিকাও উল্লেখ করেন তিনি।
কে কে যোগ দিলেন বিজেপিতে ?
চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও ছয় সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহনি, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক।
কেনো দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ?
আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadda) ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরানোর পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সংসদে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ইস্যু তুলতে গিয়েই নেতৃত্বের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন চাড্ডা। সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে পদচ্যুত করে তাঁর জায়গায় অশোক মিত্তলকে বসানো হয়। পরে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় চাড্ডা জানান, “সাধারণ মানুষের কথা বলা কি অপরাধ? আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আমি থামিনি।”
এই ঘটনার পর দলীয় স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা শুরু হয়। AAP নেতাদের একাংশ অভিযোগ করেন, তিনি নাকি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছেন না। পাল্টা হিসেবে চাড্ডা একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে সংসদে পাঞ্জাব-সহ নানা জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার উদাহরণ সামনে আনেন। এই টানাপোড়েনের জেরে তাঁর সঙ্গে দলের সম্পর্ক যে ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছিল, তা তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে বিতর্ক
তবে ‘আদর্শের মৃত্যু’র অভিযোগকে সামনে রেখে রাঘব চাড্ডার এই অবস্থান বদল রাজনৈতিক সুযোগের সদ্ব্যবহার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজেপিতে যোগের পর চাড্ডাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। ফলে সমালোচকদের একাংশের দাবি, ব্যক্তিগত অবস্থান মজবুত করার সুযোগকে অগ্রাধিকার দিতেই শেষে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করলেন চাড্ডা। যদিও চাড্ডার নিজের বক্তব্য, তিনি আগেও ‘জনতা’র জন্যই বলতেন, এর পরেও ‘জনতা’র জন্যই বলবেন।


