কলকাতা: প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন সুপ্রিম করতে হল আইপ্যাক (I-pac) মামলার শুনানি। যেখানে বারংবার মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। এদিনের শুনানিতে ফের তল্লাশি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইপ্যাক অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা নিয়েই জোরদার সওয়াল-জবাব চলে।
শুনানির সময় বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র কড়া ভাষায় জানতে চান, চলমান তদন্তের মাঝে কীভাবে একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সরাসরি আদালতে এসে বিষয়টিকে কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কোনও মন্ত্রী যদি সক্রিয় তদন্তে হস্তক্ষেপ করে সেটিকে সমান্তরালভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে কতটা গ্রহণযোগ্য? সেই প্রশ্নই এখন মুখ্য।
বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি আদৌ কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির পদক্ষেপ, যিনি কাকতালীয়ভাবে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee), এবং যার প্রভাব পড়ছে গোটা প্রশাসনিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দেশের ইতিহাসে এমন নজির প্রায় শোনা যায় না, যেখানে কোনও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সরাসরি একটি তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।
শুনানির সময় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (CBI)-র তদন্ত সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রশ্নও ওঠে। বিচারপতি জানতে চান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩১ অনুযায়ী এ ধরনের তদন্তের বৈধতা কতটা প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও সাধারণ মামলা নয়, বরং একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি, যেখানে আদালতকে নতুন করে সাংবিধানিক সীমারেখা নির্ধারণ করতে হতে পারে। শেষে বিচারপতি বলেন, সংবিধান একটি ‘জীবন্ত নথি’, যা সময়ের সঙ্গে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তাই সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই আদালতকে এই জটিল পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতে হবে।


