Aaj India Desk , কলকাতা: বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)। ১৫২টি কেন্দ্রের ভোটাররা সেদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিন্তু তার মাত্র দুদিন আগেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই আশঙ্কা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চে দায়ের করা এই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন নাকি ৮০০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে তাঁদের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আবেদন জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
এই রাজনৈতিক আবহেই সোমবার নির্বাচনী সভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এত বড় একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন কোন কর্মীদের গ্রেফতার করা হবে, কার বিরুদ্ধে গাঁজা মামলা দেওয়া হবে।”তাঁর অভিযোগ, যিনি বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নাকি ‘লাট সাহেবের ছেলে’ এবং অনুমতির ক্ষেত্রেও বিজেপির মতামত নিচ্ছেন। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ে।
অন্যদিকে, হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তৈরি তালিকায় তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে বিধায়ক, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে যে তালিকা জমা দিয়েছেন, তাতে নাম রয়েছে বিদায়ী বিধায়ক পরেশ পাল, পরেশচন্দ্র অধিকারী, উদয়ন গুহ, রত্না চট্টোপাধ্যায়, আব্দুল রহিম বক্সী, নারায়ণ গোস্বামী, বিকাশ রায় চৌধুরী, কাউন্সিলর তারক নাথ সিংহ ও সুশান্ত ঘোষের মতো একাধিক নেতার। এছাড়াও প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়, বিদায়ী বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি এবং তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের নামও ওই তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দিনহাটার বিধায়ক ও তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ বলেন, ভোটের দিনকে ঘিরে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁদের ভোটের সময় বাইরে যাওয়া, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রচার চালানো এসব আটকাতেই গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এবার মাছিও গলবে না। তৃণমূলের হয়ে যারা দুষ্কর্ম করে, তাদের এখনই সাবধান হওয়া উচিত। মোদীজি আগেই বলেছেন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে। সময় আছে, না হলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে।”
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফা ভোটের আগের দিন রাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ১৩৫ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্তর পর্যন্ত সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পুরনো রেকর্ডের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে দাগি অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


