Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : ভোটের মুখে আবারও চড়ছে বাংলার রাজনৈতিক পারদ। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে বাঁকুড়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘গুণ্ডাদের আত্মসমর্পণ’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর এই বার্তার জবাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে সভা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি পাল্টা আক্রমণ শানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পরিবর্তন আনতে হলে ভোটের পরে কেন?” পাশাপাশি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি
বাঁকুড়ার নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বলেন, “সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতীদের শেষবার বলছি, ২৯ এপ্রিলের আগে নিজেদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজে জড়িত এবং ক্ষমতা পরিবর্তন হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে মাথা ঠাণ্ডা রাখার অনুরোধ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে প্রচারসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্যকে “হুমকি” বলে আখ্যা দেন।তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এসে বলছেন সবাইকে জেলে ভরে দেবেন। আমি বলব, মাথা ঠান্ডা রাখুন।” এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিষেক বলেন, “যদি সত্যিই বাংলার মানুষের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে ভোটের পরে কেন? এখনই মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান।” তিনি মহিলাদের, যুবকদের ও মৎস্যজীবীদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি তোলেন কেন্দ্রের কাছে।
অভিষেকের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে এবং তাদের হাতে প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিদ্যমান। সেই জায়গা থেকেই প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই বাংলার মানুষের উন্নয়ন লক্ষ্য হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা কেন? সরাসরি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে তহবিল বৃদ্ধি, অথবা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর মতো পদক্ষেপ তো এখনই নেওয়া সম্ভব। এই প্রেক্ষিতে বিরোধীদেরও অভিযোগ, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন অনেক সময় ভোট-পরবর্তী শর্তের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
অন্যদিকে, বিজেপির যুক্তি, রাজ্যে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব বা রাজনৈতিক বাধা উন্নয়নকে ব্যাহত করে। উদাহরণস্বরূপ, মোদী একাধিকবার নিজের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে জমিয়েছেন, “মমতা ইচ্ছা করেই কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষকে দিচ্ছেন না।” ফলে, এই বিতর্কটি মূলত কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা, এই তিনটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ভোটারদের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করছে। এবার অভিষেকের আজকের বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সরকার কি জবাব দেয় সেটাই এখন দেখার।


