27 C
Kolkata
Monday, April 20, 2026
spot_img

দিদির আস্থাভাজনই এবার দিল্লির দূত! বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হতে পারেন কে ?

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মাঝেই দিল্লির কূটনৈতিক মহলে চালু হয়েছে জোর জল্পনা। কেন্দ্র এবার প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই ঢাকায় পাঠানোর কথা ভাবছে। কে হবে সেই রাষ্ট্রদূত তা নিয়েই চলছে জল্পনা।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই বিষয়ে ঘোষণা করা হবে। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা ব্রাসেলসে বদলি হওয়ার পর এই পদ শূন্য হবে।

কাকে রাষ্ট্রদূত করা হতে পারে ?

মমতা-ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লি-মুখ হিসেবে পরিচিত দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) বর্তমানে বিজেপির নেতা। সূত্র অনুযায়ী, তাঁকেই ভারত সরকার বাংলাদেশে পরবর্তী হাই কমিশনার পদে নিয়োগ করতে চলেছে।

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভা ও লোকসভায়ও প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৯ সালে মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে উন্নীত হন। কিন্তু এখানেই শুরু হয় তাঁর সঙ্গে মমতার সম্পর্কের চিড়। ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীন তিনি পদত্যাগ করেন এবং বিজেপিতে যোগ দেন।

কেন ত্রিবেদী?

ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi) গুজরাতি বংশোদ্ভূত হলেও বাংলা ভাষায় সাবলীল দক্ষতা তাঁকে এই পদের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক-ভাষাগত মিলসম্পন্ন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি। বাংলায় বড় হয়ে ওঠা, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি সহজেই বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামের (ইন্দো-ইউরোপিয়ান, ইন্দো-আমেরিকান, ইন্দো-জাপান ইত্যাদি) চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকেও তিনি উপযুক্ত।

যদিও কূটনৈতিক মহলে এই জল্পনা তুঙ্গে, তবে এখনও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। যদি এটি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এটি শুধু একটি কূটনৈতিক নিয়োগ নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক নেতার নতুন ভূমিকার প্রতীক হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন