27 C
Kolkata
Monday, April 20, 2026
spot_img

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে, তবু সন্তোষের দাবি জোট হলে দল ছাড়তাম না

Aaj India Desk,কলকাতা: দুই দশক ধরে সন্তোষ পাঠক নামটা যেন কংগ্রেসের সঙ্গেই সমার্থক ছিল কলকাতা-র রাজনীতিতে। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের সময় দলের সংগঠন দুর্বল হলেও, হাত ছাড়েননি তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর ভোটের আগে আচমকাই বদলে গেল সেই চিত্র। কংগ্রেস ছেড়ে এবার পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন সন্তোষ, যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চমক ফেলেছে।

শমীক ভট্টাচার্য-এর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিয়ে এখন তিনি গেরুয়া শিবিরের মুখ। শুধু যোগদানই নয়, চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবেও নাম ঘোষণা হয়েছে তাঁর। শুরুতে দলবদলের সিদ্ধান্তে অস্বস্তি থাকলেও, বিজেপির কর্মীদের আন্তরিকতায় এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন এমন টাই জানান তিনি ।তবে এখানেই শেষ নয় কংগ্রেস ছেড়ে আসার পরেও সন্তোষ পাঠকের একটি মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

দুই দশকের রাজনৈতিক সফরে চারবার কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (Kolkata Municipal Corporation)-এর কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক নামটা শহর রাজনীতিতে বরাবরই পরিচিত। বিধানসভা ভোটেও কংগ্রেসের টিকিটে লড়েছেন ২০১৬ ও ২০২১-এ। কিন্তু দলবদলের পরেও অতীত যেন তাঁকে ছাড়ছে না।বাম-কংগ্রেস জোটের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগপ্রবণ শোনাল সন্তোষকে। স্পষ্ট জানালেন, “যদি জোট বেঁধে লড়াই হতো, তাহলে আজও কংগ্রেস ছাড়তাম না।” অর্থাৎ রাজনৈতিক সমীকরণই তাঁর সিদ্ধান্ত বদলের বড় কারণ এমনটাই ইঙ্গিত তাঁর কথায়।দল বদলালেও, পুরনো জোট রাজনীতির স্মৃতি যে এখনও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে, তা এই মন্তব্যেই পরিষ্কার।

২০১৬ ও ২০২১ দুই নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েই লড়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২৬ আসতে না আসতেই সেই সমীকরণ ভেঙে যায়। দীর্ঘ জল্পনার পর কংগ্রেস (Indian National Congress) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পশ্চিমবঙ্গে তারা একাই লড়বে। আর সেই ঘোষণার পরেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেন সন্তোষ পাঠক। সন্তোষের কথায় উঠে এসেছে মাঠপর্যায়ের বাস্তব ছবি। তাঁর দাবি, হাওড়ার বহু এলাকায় কংগ্রেসের সংগঠন এতটাই দুর্বল ছিল যে ২০টি বুথেও কর্মী বসানোর মতো লোক জোগাড় করা যেত না। সেখানে কোনও আর্থিক প্রলোভন ছাড়াই বুথ সামলাতেন বাম কর্মীরাই।

শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের ভোটের স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, তৃণমূলের সংগঠিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাঁর পাশে সবচেয়ে বেশি ভরসা জুগিয়েছিলেন বাম (Communist Party of India) -এর কর্মীরাই। অর্থাৎ, জোট রাজনীতির সেই অভিজ্ঞতাই আজও তাঁর সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যে স্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে।

২০০৫ লাল জমানার সময়েই প্রথমবার কাউন্সিলর হন তিনি। সময় বদলেছে, পাল্টেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, কিন্তু তৃণমূলের আমলেও কংগ্রেসের পতাকাতেই লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, যদি এ বারও বাম-কংগ্রেস জোট হতো, তবে দলবদলের প্রশ্নই উঠত না বিজেপিতে যোগ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ত না।পরিকল্পনাও ছিল পোক্ত জোট হলে জোড়াসাঁকো থেকেই ভোটে নামবেন, আর জয়ের ব্যাপারেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু সেই সমীকরণ আর তৈরি হল না। অপূর্ণই থেকে গেল সেই স্বপ্ন।

এখন তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন শিবিরে বিজেপির সেনানি।এবার নজর ২৯ এপ্রিলের ভোটে, আর তার ফল জানা যাবে ৪ মে চৌরঙ্গীর মানুষ শেষ পর্যন্ত কার উপর ভরসা রাখেন, সেটাই দেখার।

 

 

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন