Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা ভোট (Assembly Election) যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। নানা প্রতিশ্রুতি, পাল্টা অভিযোগ আর প্রচারের ঝড়ে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী সব পক্ষ। তবে গত নির্বাচনের পর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে, তা হল শিক্ষা ব্যবস্থা (Education system)। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন-একের পর এক সরকারি স্কুল (Government School) কেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
মূলত দুটি বড় সমস্যার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে-দুর্বল পরিকাঠামো এবং শিক্ষকের অভাব। বিরোধীরা বারবার দাবি তুলেছে, ৮ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণ কী, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। এই ইস্যু বিধানসভাতেও একাধিকবার উঠেছে। কলকাতার কিছু স্কুলে এখনও শিক্ষক থাকলেও জেলার পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক। সরকারি স্কুলগুলিতে মূলত নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েরাই পড়াশোনা করে। সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালু করলেও, জেলার বহু স্কুল কার্যত টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।
তথ্য বলছে, জেলার তুলনায় কলকাতায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি শিক্ষক রয়েছেন। অথচ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সেখানে জেলার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অভিযোগ, ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বহু শিক্ষক জেলা থেকে শহরের স্কুলে বদলি হয়ে গিয়েছেন। ফলে গ্রাম ও মফস্বলের স্কুলে শিক্ষক কমে যাওয়ায় ছাত্রসংখ্যাও কমেছে। ধীরে ধীরে বহু স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
কেন জেলায় জেলায় শিক্ষকের অভাব
১. বিভিন্ন জেলায় শিক্ষক পাঠানোর জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হলেও, তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
২. শিক্ষানীতিতে প্রত্যেক শিক্ষককে গ্রামীণ এলাকায় কিছু সময় পাঠদান বাধ্যতামূলক করার কথা থাকলেও, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
৩. ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল চালুর পর বদলির অধিকাংশ নির্দেশই জেলা থেকে শহরমুখী হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
শিক্ষক সংখ্যায় বাংলার পিছিয়ে পড়া
সরকারি নথি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট স্কুলের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭১৫। রাজস্থানে রয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৩০২টি স্কুল এবং উত্তর প্রদেশে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৫৮টি স্কুল। অর্থাৎ স্কুলের সংখ্যার নিরিখে বাংলা এই দুই রাজ্যের পিছনে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শিক্ষক সংকট আরও প্রকট। রাজস্থানে প্রতি স্কুলে গড়ে ৬ জনের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে বাংলায় সেই গড় ৫ জনেরও নিচে বলে জানা যাচ্ছে।
খোদ শিক্ষামন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রের ছবিই নাকি পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। দমদমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে খেলার মাঠের পাশে থাকা সূর্য সেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন আর ক্লাস হয় না, ঘণ্টাও বাজে না। স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একই বিধানসভা এলাকাতেই আরও কয়েকটি স্কুলে শিক্ষক না থাকায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর কিছু স্কুল ভবনে অসামাজিক কাজকর্মও হয়। জেলার নানা প্রান্তে এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষক সঙ্কটের কথা শিক্ষামন্ত্রী একাধিকবার স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার জেলায় শিক্ষক পাঠানোর চেষ্টা করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। তবে বিরোধীরা এই বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারের বড় অস্ত্র করতে চাইছে। দমদম কেন্দ্রে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বামপন্থী শিবিরের তরুণ মুখ ও প্রাক্তন ছাত্রনেতা ময়ূখ বিশ্বাস। তিনি প্রচারে শিক্ষা সংকটকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতির বক্তব্য, “ভোট দেওয়ার আগে মানুষের উচিত এলাকার স্কুলগুলোর অবস্থা দেখা। বাংলার বহু স্কুলে একজন শিক্ষককে ১০০ জন ছাত্র সামলাতে হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছাত্রই থাকবে না।”


