Aaj lndia Desk, কলকাতা: গতবার ভোটের মাঠে বড় সাফল্যের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সেই প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধাও পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এবার সেই একই কৌশলের সঙ্গে নতুন সংযোজন যুবসাথী প্রকল্প।
দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন প্রকল্পও ভোটের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তাই রাজ্যের শাসক দল এখন প্রায় প্রতিটি জনসভায়ই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাশাপাশি ‘যুবসাথী’-র কথাও তুলে ধরছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই নিয়মিতভাবে এই দুই প্রকল্পের সাফল্যের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরছেন।সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এদিন সোনারপুরের স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাবের মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকেও যুবসাথী নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপায়ণ ও তরুণদের সুবিধা নিয়েই মূলত তাঁর বক্তব্য ঘুরে আসে।
সোনারপুরের সভা থেকে এদিন একের পর এক ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটের আগেই এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়েও ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এপ্রিলের বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ডিএ নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি ।কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা বাংলায় কোটি কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিয়েছি। কিন্তু যারা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা বাস্তবে কিছুই করতে পারেনি। একটাও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।”
এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় আরও সরব হয়ে তিনি বলেন, ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। পাশাপাশি বিরোধীদের বক্তব্যকেও কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “যারা আজ বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে, তাদের কাজ আর কথার মধ্যে কোনও মিল নেই।”মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকৃত অর্থে নারীদের সম্মান ও স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এদিন তীব্র সুরে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের একজোট অবস্থানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অহংকারে ভর করেছিল শাসক শিবির, কিন্তু ভোটের ফলেই তার জবাব মিলেছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরেও তীব্র কটাক্ষ। তাঁর অভিযোগ, জনতার উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের আড়ালে বাস্তবে “অপব্যবহার” চলছে। কেন্দ্রীয় প্রচারমাধ্যম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, দাবি করেন, এক সময় যা নিরপেক্ষ ছিল, তা এখন একপাক্ষিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এরপর শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর কথায়, স্কুল স্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিহাস ও পাঠ্যক্রম বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধন করে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় সংসদে তা পাস করানো সম্ভব হয়নি, যা নিয়েই এখন রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে।


