Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : জনগণের সেবা করতে নেমে নিজেরই ‘সেবা’ করে ফেলছেন নাকি তৃনমূল প্রার্থীরা? অন্তত সাম্প্রতিক এক তৃনমূল (TMC) প্রার্থীর হলফনামার হিসেব সামনে আসার পর এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রার্থী অরুন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলির মনোনয়ন জমার পর প্রকাশ্যে আসা তাঁর হলফনামায় গত পাঁচ বছরে সম্পত্তি বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য চিত্র সামনে এসেছে। অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা অরুন্ধতী মৈত্র ২০২১ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। তখন তিনি অন্য কেন্দ্রের ভোটার থাকলেও, পরে নিজের কেন্দ্রেই ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। এবারও দল তাঁকেই প্রার্থী করেছে।
মোট সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬ গুণ
হলফনামা অনুযায়ী, অরুন্ধতী মৈত্র ও তাঁর স্বামী সৌম্য রায় দু’জনের নামেই কোনও স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি বা জমি) নেই। তবে ব্যাংক আমানত, ফিক্সড ডিপোজিট এবং বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। পিপিএফ-সহ অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্যও সামনে এসেছে। ২০২১ সালে প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকার সম্পত্তি থাকলেও, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৭০ কোটিরও বেশি। গত পাঁচ বছরে তাঁদের সোনার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে অরুন্ধতীর কাছে প্রায় ১০০০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য এক কোটিরও বেশি। তাঁর স্বামীর কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা রয়েছে। নগদের পরিমাণ তুলনামূলক কম, অরুন্ধতীর কাছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা এবং তাঁর স্বামীর কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা রয়েছে। ২০২১ সালে গাড়ি না থাকলেও, ২০২৩ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার একটি গাড়ি কেনা হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ। এইবারের হলফনামায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের উল্লেখ করেছেন অরুন্ধতী মৈত্র। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক আর্থিক বছরে তিনি ও তাঁর স্বামী কয়েক লক্ষ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলেও জানা গেছে।
‘স্বার্থসেবা’ নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ
মনোনয়নপত্রের হলফনামায় সম্পত্তির এই বৃদ্ধি নির্বাচনের আগে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, ‘জনসেবা’ আর ‘স্বার্থসেবা’ এক করে নিজের ঘরের লক্ষ্মীই বাড়িয়ে চলেছেন লাভলি। পাশাপাশি এর আগে একাধিকবার তৃনমূল কংগ্রেসের (TMC) কর্মীদের মধ্যেও তাঁর সম্পর্কে নানান গুঞ্জন উঠেছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে লাভলি আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবু সেইসব অভিযোগ খারিজ করে দলের পক্ষ থেকে ফের তাঁকেই প্রার্থী পদ দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, সম্পত্তি বৃদ্ধির এই প্রশ্ন এখন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবিশ্বাসের মূলে গিয়ে আঘাত হেনেছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্যই হল ভোটারদের কাছে তাঁদের আর্থিক অবস্থার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা। ফলে এই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবেন ভোটাররাই।


