Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : হাতে গোনা আর কয়েকদিন বাদেই শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। বঙ্গে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু ফের রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম (Nandigram)। হুমকি, গালিগালাজ থেকে শুরু করে বোমাবাজির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল নেতার নাম জড়াতেই এখানে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে বাড়তি উদ্বেগ
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস বেগের অভিযোগ, ১৫ এপ্রিল নন্দীগ্রামের (Nandigram) দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়নানে একটি পথসভা চলাকালীন তৃনমূলের নেতা শেখ সুফিয়ান তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন। এই ঘটনার পর তিনি নন্দীগ্রামের পুলিশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নেয় ১৬ এপ্রিল রাতে। আব্বাস বেগের দাবি, তাঁর দাউদপুরের বাড়ির কাছে বোমা ফাটানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায় এবং এলাকায় থেকে তাজা বোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ তৃনমূল নেতার
তবে অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাস্তবে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, যেভাবে তা প্রচার করা হচ্ছে।” শুধু অভিযোগ খারিজ করেই থেমে থাকেননি তিনি। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সুফিয়ান বলেন, যদি সত্যিই কোনও হুমকির ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার নির্দিষ্ট প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ থানায় জমা দেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, “অভিযোগ করা সহজ, কিন্তু তার প্রমাণও দিতে হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।”
একই সঙ্গে অভিযোগকারী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। সুফিয়ানের দাবি, ওই নেতা পঞ্চায়েতের অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগ তুলে প্রকৃত বিষয় থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বারবার অভিযোগের বন্যা নন্দীগ্রামে
উল্লেখ্য, ভোট যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামে (Nandigram) রাজনৈতিক উত্তেজনাও তত বাড়ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। এবারও এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় রয়েছে। ফলে বারবার এই ধরনের অভিযোগ-প্রত্যাঘাতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনায় কমিশন ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


