কলকাতা: আইপ্যাক (I-pac) কান্ডে হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি(ED)। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার বর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআই-এর বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করল ইডি। এদিন সর্বোচ্চ আদালতে ইডির তরফে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং ওপর মামলাটি দায়ের করেন নিশান্ত কুমার, বিক্রম আলাহওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা নামক তিনজন ইডি আধিকারিক।
হাইকোর্টে মুলতুবি মামলা
প্রসঙ্গত, ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক (I-pac) অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি তল্লাশি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাধা সৃষ্টি ও নথি সরানোর অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল ইডি। ৯ জানুয়ারি সেই মামলার শুনানি থাকলেও এজলাসে অত্যধিক ভিড় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় শুনানি শুরু করতে পারেননি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। সেই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ক্যাভিয়েট দখল
অন্যদিকে, ইডি (ED) মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে ক্যাভিয়েট দখল করে রাজ্য রাজ্য। যাতে মামলার শুনানি একতরফা না হয়। মূলত, ২০২০ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা একটি কয়লা পাচার সংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। ইডির দাবী, কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা একজন হাওয়ালা অপারেটর মারফত আইপ্যাকে ঢুকেছে। সেই তদন্ত অভিযানে পুলিশের সাহায্য নিয়ে ‘অপরাধ সংক্রান্ত নথি’ কেড়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল ও ল্যাপটপ হাতে নিয়ে বেরতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। যার জেরে অভিযান মাঝপথেই বন্ধ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ ইডির। অন্যদিকে, তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের তথ্য, পরিকল্পনা, প্রার্থী তালিকা হাতাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এই অভিযান করেছে ইডি বলে দাবী করছেন মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূল কংগ্রেস। এখন সুপ্রিম কোর্টে কবে এই মামলার শুনানি হয়, সেইদিকেই তাকিয়ে রাজ্য।


