কলকাতা: দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট প্রায় সবই ওয়েটিং লিস্টে। কেউ কনফার্ম টিকিট না পেয়েও যাত্রা শুরু করেছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে আসন পাওয়ার আশায় স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না, ফিরতেই হবে। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার বাসিন্দা নাসের আলি বলেন, “আমাদের টিকিট কনফার্ম হবে কি না জানি না। তবু যাচ্ছি। কাজ থাকুক বা না থাকুক, কিছু যায় আসে না। ভোটটা দিতে হবে।”
তাঁর সঙ্গে আটজনের একটি পরিবারও দিল্লি থেকে রওনা দিয়েছে। কারও বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর, কারও মালদা, কারও মুর্শিদাবাদ। গন্তব্য আলাদা হলেও উদ্দেশ্য একটাই নিজের গ্রামে ফেরা, ভোটের আগে। অনেকের চোখে এই ফেরা শুধুই ভোট দেওয়ার জন্য, কিন্তু আড়ালে আছে গভীর উদ্বেগ। SIR আতঙ্কে ভুগছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক।
তাঁদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে, কিংবা পরিচয় নিয়েই তৈরি হতে পারে অনিশ্চয়তা। সেই ভয়ই তাঁদের তাড়িয়ে নিয়ে আসছে নিজের গ্রামে, নিজের ভোটকেন্দ্রের দিকে। কাজ থাকুক বা না থাকুক, এই মুহূর্তে তাঁদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ভোট দেওয়া। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরছেন বাংলার দিকে। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, যেখানেই কাজ, সেখান থেকেই যেন এক অদৃশ্য টানে ঘরে ফেরা শুরু হয়েছে। হাতে সময় কম, ট্রেনের টিকিট নেই, তবু থামছে না যাত্রা।


