মুম্বই: দেশের অন্যতম নামজাদা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! TCS-এর বিপিও ইউনিটে নাকি দিনের পর দিন ধরে কর্মীদের নমাজ পড়তে বাধ্য, জোর করে মাংস খাওয়ানো, ধর্মান্তর এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্থিত টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এ। অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মহিলা কর্মীদের সঙ্গে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছে ৬ জন পুরুষ এবং ২ মহিলা সহকর্মী!
ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন রয়েছেন আসিফ আনসারি, দানিশ, শাফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন এবং তৌসিফ আত্তার। এছাড়াও আরেকজন কর্মী, POSH (যৌন হয়রানি প্রতিরোধ) কমিটির অপারেশনস ম্যানেজার অশ্বিন চেইনানিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এইচআর ম্যানেজার নিদা খান বর্তমানে পলাতক। এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে ১২ জন নির্যাতিতাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় অভিযোগকারীরা একটি সংগঠিত চক্রের কথা উল্লেখ করেছেন যার সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মী এবং একজন এইচআর (HR) ম্যানেজার জড়িত রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা একটি প্রশিক্ষণ দলের সদস্য ছিল এবং নতুন যোগদানকারীদের সম্পর্কে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য থাকত। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, তারা এমন ব্যক্তিদেরই ‘লক্ষ্য’ (Target) হিসেবে বেছে নিত, যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত এবং যাদের টাকার প্রয়োজন ছিল।
অভিযোগ, প্রশিক্ষণ চলাকালীন হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হত। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এইচ আর নিদা খান নাকি তাঁদেরকে ‘ব্রেইন ওয়াশ’ করত। এরপর তাঁদের জীবনযাপন ও পোশাক-পরিচ্ছদের ধরণ পরিবর্তন করতে প্ররোচিত করা হতো। টার্গেট হওয়া কর্মীরা এতটাই প্ররচিত হতেন যে এমনকি নিজের পরিবারের সঙ্গেও তাঁরা বিবাদে জড়িয়ে পরতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার আরও গভীরে তদন্ত করছে বিশেষ দল।


