Aaj India Desk,মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) অফিসকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসায় কর্পোরেট মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মহিলা কর্মীদের টার্গেট করে যৌন হয়রানি, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাত বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে এক মহিলা কর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু তদন্ত এগোতেই একের পর এক নতুন অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। আরও কয়েকজন মহিলা কর্মী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত ‘র্যাকেট’-এর মতো কাজ করছিল।
অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু সিনিয়র কর্মী ও টিম লিডার পদমর্যাদার ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলা কর্মীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। কাজের সুযোগ, প্রমোশন বা চাকরি বজায় রাখার ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর বিষয়টি। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু কর্মীকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হতো এবং পরোক্ষভাবে ধর্মান্তরণের দিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতো বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশ যাচাই করছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন পুরো নেটওয়ার্কের কাঠামো, কারা এতে যুক্ত এবং কীভাবে এই কার্যকলাপ চলছিল তা খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে, টিসিএস কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর কর্পোরেট সেক্টরে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নারীদের সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, গোটা আইটি ইন্ডাস্ট্রির উপরেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট পেশ করা হবে। পুরো ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটনে জোরদার তল্লাশি চলছে।


