Aaj lndia Desk,পশ্চিম মেদিনীপুর : পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ঝড় সংকল্প পত্রে বড় বাজি ধরল বিজেপি। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা, সঙ্গে বেকার যুবক -যুবতীদের জন্যও একই অঙ্কের ভাতা এমনই ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে দলটি।ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চে অমিত শাহের সাফ বার্তা, সমাজের সব স্তরেই মহিলাদের আর্থিক অবস্থা এখনো দুর্বল। সেই বাস্তবতা বদলাতেই মাসের শুরুতেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপির।
অর্থাৎ, বর্তমান ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থের প্রতিশ্রুতি যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আর এই ঘোষণার ঠিক পরদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এর মুখে আবারও উঠে এল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর প্রসঙ্গ।ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির এই লড়াইয়ে কে এগিয়ে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তিনি স্পষ্টই বললেন, “SIR একটা বড় দুর্নীতি সময় এলে সব সামনে আসবে।”একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দাবি করেন, “দিল্লি বাংলা টার্গেট করেছে, আর আমাদের টার্গেট দিল্লি। আমরা যা বলি, তা করি ওরা শুধু বলে, করে না। ভোটের আগে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তারপর সব ফাঁকা।”এরপরই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল, এখন সেটা বেড়ে দেড় হাজার, ১৭০০ টাকায় পৌঁছেছে। আজ এখান থেকে বলে যাচ্ছি এই প্রকল্প আজীবন চলবে।”
নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আপনাদের যা সঞ্চয় ছিল, তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই মানুষের পাশে থাকতে আমরা যা যা করার, সবই করব।”সব মিলিয়ে, প্রতিশ্রুতি বনাম প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কেই বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরলেন মমতা।
কেশিয়ারির পাশাপাশি বসিরহাটের সভা থেকেও বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্যে ছিল সতর্কবার্তা আর অভিজ্ঞতার উদাহরণ দুটোরই মিশেল। মমতা বলেন, “ওরা বলছে অনেক টাকা দেবে। কিন্তু মনে রাখবেন, ভোটের আগে অনেক কিছুই বলে। বিহারে ভোটের আগে মেয়েদের অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার টাকা ঢুকিয়েছিল, আর ভোট মিটতেই সব বন্ধ চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বুলডোজার, আর একটা পয়সাও দেয়নি।”এরপরই নিজের সরকারের প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, “আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কিন্তু সবার কাছে পৌঁছয়, নিয়ম করে। ওরা যেটা চালু করেছিল, সেটাও নকল করে।”শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “আগামী দিনেও এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে। আমরা বিজেপির মতো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিই না।”বসিরহাটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাই প্রতিশ্রুতির লড়াইকে বিশ্বাস বনাম সন্দেহের জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলেন মমতা।”শুধু মাসিক ভাতা নয়, মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি সাজিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছে বিজেপি। লক্ষ্য একটাই মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলা।
দলের ইস্তেহার অনুযায়ী, ক্ষমতায় এলে চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হবে। পাশাপাশি ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে প্রায় ৭৫ লক্ষ মহিলাকে, যাতে তাঁরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন।যাতায়াতেও বড় স্বস্তির প্রতিশ্রুতি সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তার দিকেও জোর দিয়ে বিজেপির ঘোষণা, প্রতিটি মণ্ডলে গড়ে তোলা হবে মহিলা থানা এবং সব থানাতেই থাকবে মহিলাদের জন্য আলাদা সহায়তা ডেস্ক।অর্থাৎ, আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা সব দিকেই নজর রেখে প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ সাজিয়েছে বিজেপি।এখন প্রশ্ন একটাই এই প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কে? তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের দিনেই।


