Aaj lndia Desk,কলকাতা: একসময় লাল পতাকার নিচে রাজনীতি আজ ঘাসফুল শিবিরের ভরসার মুখ। রাজ্যসভার সাংসদ থেকে শুরু করে শ্রমিক রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসা রাজনীতির রঙ বদলালেও আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে তৃণমূলের প্রার্থী তিনি। ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন হলফনামা আর সেখানেই সামনে এসেছে তাঁর আর্থিক ছবির খুঁটিনাটি।নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ঠিক কত? গত পাঁচ বছরে আয়ের অঙ্ক কতটা বেড়েছে বা কমেছে? রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশও এখন চর্চার কেন্দ্রে।
হলফনামার পাতায় কী কী তথ্য উঠে এসেছে জানেন?
২০২০-২১ অর্থবর্ষে যেখানে তাঁর আয় ছিল ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬১০ টাকা, ঠিক তার পরের বছরই তা লাফিয়ে পৌঁছে যায় ৯ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৪০ টাকায়। এরপরও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখে ২০২২-২৩-এ আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৪৪০ টাকা।
তবে হঠাৎই ছন্দপতন ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় নেমে আসে মাত্র ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৬৭ টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় চোখে পড়ার মতো কম।কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো! ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় নতুন করে উল্লম্ফন ঘটিয়ে পৌঁছে যায় ১৮ লক্ষ ৫ হাজার ৭০০ টাকায়।সব মিলিয়ে, কয়েক বছরের এই আয়-যাত্রা বলছে একটাই কথা সংখ্যার খেলায় চমক আছে ভরপুর!
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এর হলফনামায় উঠে এসেছে তাঁর স্ত্রী দুর্বা সেনের আয়ের ছবিও আর সেখানে রয়েছে নাটকীয় ওঠানামার গল্প।শুরুর বছর, অর্থাৎ ২০২০-২১-এ দুর্বা সেনের আয় ছিল ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা। কিন্তু পরের বছরই চিত্র বদলায় ২০২১-২২-এ আয় নেমে আসে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩১০ টাকায়।এরপরই যেন টার্নিং পয়েন্ট! ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে পৌঁছে যায় ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৮০ টাকায়। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখে ২০২৩-২৪-এ আয় হয় ১২ লক্ষ ৪১ হাজার ৩৪০ টাকা।আর সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় আরও এক ধাপ এগিয়ে দাঁড়ায় ১৭ লক্ষ ১২ হাজার ৯৩০ টাকায়।সব মিলিয়ে, দুর্বা সেনের আয়ের এই যাত্রাপথ বলছে শুরুটা ধীর হলেও পরের দিকে গতি পেয়েছে বেশ জোরালোভাবে!
ঋতব্রতের হাতে নগদ রয়েছে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর হাতে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। তবে আসল ছবি লুকিয়ে রয়েছে ব্যাঙ্ক ব্যালান্সে একাধিক স্থায়ী আমানত ও অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ঋতব্রতের মোট জমা ৮৯ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৫৯ টাকা। শুধু একটি অ্যাকাউন্টেই রয়েছে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকার বেশি। অন্যদিকে, দুর্বা সেনের ব্যাঙ্কে মোট সঞ্চয় ৩৮ লক্ষ ৩২ হাজার ১৭৭ টাকা।এতেই শেষ নয় মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ, জীবনবিমা পলিসি সব মিলিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাও বেশ সুসংগঠিত। ঋতব্রতের নামে একটি জীবনবিমা, আর তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে দুটি পলিসি।গাড়ির দিকেও নজর কাড়ার মতো তথ্য ২০২৫ সালে প্রায় ৭.৯৪ লক্ষ টাকায় একটি গাড়ি কিনেছেন ঋতব্রত। আর ২০২১ সালে তাঁর স্ত্রীর নামে কেনা গাড়িটির দাম ২৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার বেশি।গয়নাতেও রয়েছে পার্থক্য ঋতব্রতের কাছে ১৫ গ্রাম সোনা মূল্য প্রায় ২.২৯ লক্ষ টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর কাছে ৮০ গ্রাম সোনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২.২১ লক্ষ টাকা।এমনকি নিজের মোবাইল ফোনের দামও লুকোননি ঋতব্রতের ফোনের মূল্য ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা!সব হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ১৬ লক্ষ ১৫ হাজার ২৩২ টাকা। আর তাঁর স্ত্রী দুর্বা সেনের অস্থাবর সম্পদ ৮৩ লক্ষ ৭৯ হাজার ৩০৪ টাকা।
সব মিলিয়ে, এই হলফনামা বলছে রাজনীতির ময়দানের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বেশ শক্ত অবস্থানেই রয়েছেন এই দম্পতি।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বা তাঁর স্ত্রীর নামে কোনও কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। অর্থাৎ জমিজমার দিক থেকে এই দম্পতি একেবারেই জিরো হোল্ডিং।তবে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ একটি ফ্ল্যাট, যা তাঁদের যৌথ মালিকানায়। ২০১৮ সালে কেনা এই ফ্ল্যাটটির জন্য দুজনকেই খরচ করতে হয়েছিল ৪৯ লক্ষ ১৫ হাজার ১২৬ টাকা করে। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পত্তির মূল্য বেড়েছে বর্তমানে দুজনের অংশের দামই দাঁড়িয়েছে ৬৬ লক্ষ ১ হাজার ৩২০ টাকা করে। ফলে পুরো ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য এখন ১ কোটি ৩২ লক্ষ ২ হাজার ৬৪০ টাকা।এই হিসেব অনুযায়ী, ঋতব্রতের স্থাবর সম্পদ ৬৬ লক্ষ ১ হাজার ৩২০ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদও একই পরিমাণ।তবে সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে দায়ও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া গৃহঋণ। ঋতব্রত ও তাঁর স্ত্রী দুজনের নামেই রয়েছে ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ১০০ টাকার করে ঋণ।পেশাগত দিক থেকে, ৪৭ বছরের ঋতব্রত নিজেকে ‘সমাজকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন পেনশন ও সুদ থেকে প্রাপ্ত আয়। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী চাকরিজীবী তাঁর আয়ের উৎস বেতন ও সুদ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে স্পষ্ট তথ্য ২০০৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।সব মিলিয়ে, জমি না থাকলেও একটি ফ্ল্যাট, নিয়মিত আয় ও ঋণের ভার এই ত্রিভুজেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দম্পতির আর্থিক বাস্তবতা।


