Aaj lndia Desk,কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে রাজ্যজুড়ে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেই ঘটনারই এক নতুন রাজনৈতিক মোড়। নিহত ডাক্তারি ছাত্রীর মা-কে এবার প্রার্থী করল BJP (Bharatiya Janata Party)।পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তিনি লড়াইয়ে নামছেন, ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্রও।
এক সময় যিনি ছিলেন ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদের মুখ, তিনিই এখন সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে। তাঁর এই প্রার্থীপদ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা সহানুভূতির স্রোত, না কি রাজনৈতিক কৌশল?এদিকে, মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় কী কী তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে। সম্পত্তি, দায়-দেনা থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সব কিছুই এখন জনসমক্ষে আসার অপেক্ষায়।
হলফনামায় উঠে এল প্রার্থীর আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত চিত্র সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাপই যেন স্পষ্ট।নথি অনুযায়ী, প্রার্থীর হাতে রয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা নগদ। পাশাপাশি ব্যাঙ্কে রয়েছে একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট ও সেভিংস অ্যাকাউন্টে সঞ্চয়। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীর কাছেও রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা নগদ, এবং তাঁর নামেও রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। স্বামী-স্ত্রীর একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও রয়েছে।সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে একটি গাড়ি, যা বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে। এই গাড়িটি মূলত তাঁদের মেয়েই কিনেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেটি তাঁদের নামে স্থানান্তরিত হয়েছে যা এই ঘটনার আবেগঘন দিকটিকেও সামনে আনে।এছাড়াও, প্রার্থীর কাছে রয়েছে প্রায় ৩০ গ্রাম সোনা। সব মিলিয়ে, হলফনামা বলছে বিলাসিতা নয়, বরং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই গড়ে ওঠা এক সাধারণ পরিবারের ছবি।
হলফনামার খতিয়ান বলছে, পানিহাটির বিজেপি (Bharatiya Janata Party) প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান একেবারেই সরল ও সীমিত পরিসরের।নথি অনুযায়ী, প্রার্থীর নামে ব্যাঙ্কের সঞ্চয়, নগদ অর্থ এবং গাড়ির মূল্য মিলিয়ে মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৯ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৩২ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীর ক্ষেত্রে এই অঙ্ক অনেকটাই বেশি ব্যাঙ্ক আমানত, নগদ এবং গাড়ি মিলিয়ে মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৪৯ টাকা।স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীর নামে কোনও জমি বা বাড়ি নেই। তবে তাঁর স্বামীর নামে থাকা জমি ও বাড়ির আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।আইনি দিক থেকেও নথি পরিষ্কার প্রার্থীর নামে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই, নেই কোনও ঋণের বোঝাও। আয়কর সংক্রান্ত তথ্যও জমা পড়েনি। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৭২,১৯০ টাকা।
সব মিলিয়ে, হলফনামা এক সাধারণ, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক বাস্তবতাকেই সামনে তুলে ধরছে যেখানে সীমিত সম্পদের মধ্যেই জীবনযাত্রা গড়ে উঠেছে।


