Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের মরসুম যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরজি কর মামলা (RGKar Case)। এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে যে চাঞ্চল্য একসময় দেশজুড়ে ঝড় তুলেছিল, সেই তদন্তে নতুন করে গতি আনতে কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে গোটা প্রক্রিয়াকে। একই সাথে নির্যাতিতার পরিবার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় আদৌ এই তদন্ত কতটা ন্যায়বিচারের চেষ্টা আর কতটা নির্বাচনে জেতার সিঁড়ি তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ
সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট জানায়, প্রয়োজনে যে কোনও সন্দেহভাজনকে পুনরায় জেরা করতে পারবে সিবিআই। এমনকি দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তকেও জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। তদন্তে নতুন তথ্য এলে নতুন নাম যুক্ত করারও সুযোগ থাকবে। আইন ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশ সিবিআইকে সম্ভাব্য ‘বৃহত্তর চক্রান্ত’ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ দিল। তবে নতুন করে কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, তা এখন তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ২০২৪ আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরদিন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই তদন্তের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মৃতার পরিবার। আরজি কর মামলায় (RGKar Case) অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃতার পরিবার হাইকোর্টে আবেদন জানায়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই মামলা ওঠে। বিষয়টি পরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবার হাইকোর্টে ফিরে আসে। এই প্রেক্ষাপটেই হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল।
ন্যায়বিচার না কি নতুন নাটক?
অন্যদিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও তুমুল ঝড় উঠেছে। চলতি নির্বাচনে মৃতার মা রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ফলে ভোটের ঠিক আগে এই আরজিকর মামলার (RGKar Case) পুনরায় তদন্ত চালু হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন কোনো তদন্ত না করে হঠাৎ ভোটের পূর্বেই কেনো ন্যায়বিচারের চেষ্টা শুরু তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। এটি ন্যায়বিচারের পথে এক নতুন অধ্যায়, নাকি ভোটের আগে আলোচনায় থাকার একটি প্রচেষ্টা সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


