Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর : প্রথমে শুনলে মনে হতে পারে কোনও নতুন কোল্ড ড্রিঙ্কসের বিজ্ঞাপন। কিন্তু ভালো করে দেখলেই ধরা পড়ছে, সেটাই আসলে সিপিআইএমের (CPIM) ভোটের বার্তা। রায়গঞ্জে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ছাঁচে নাম বদলে তৈরি পোস্টারের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের টানতে এবার নতুন কৌশলে ময়দানে নেমেছে লাল শিবির।
বিজ্ঞাপনের ভাষায় ভোটের বার্তা
সাবান, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চিপস থেকে শুরু করে বেসরকারি ব্যাঙ্ক সহ বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের আদলে তৈরি করা হচ্ছে পোস্টার। তবে মূল ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক বার্তা। ‘Sprite’ হয়ে যাচ্ছে ‘Bright’, ‘Bingo’ বদলে ‘Mingo’, ‘Kurkure’ হয়ে ‘Murmur’, এবং ‘ICICI’ লেখা হচ্ছে ‘icicy’। প্রতিটি পোস্টারের নীচে থাকছে ‘Raiganj CPIM’ ট্যাগলাইন।
এই পোস্টারগুলিতে শুধু প্রচার নয়, প্রতিপক্ষকে আক্রমণও করা হচ্ছে। কোথাও দুর্নীতি, কোথাও সাম্প্রদায়িকতা, বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে এই বিজ্ঞাপন-অনুকরণ পোস্টে। এক পোস্টারে চাকরি দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, অন্যদিকে কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি ও তৃণমূল দুই পক্ষকেই নিশানা করা হয়েছে।
তরুণ ভোটারদের মন জিততেই নতুন কৌশল
সিপিআইএমের (CPIM) রায়গঞ্জ শহর এরিয়া কমিটির সদস্য ও মিডিয়া ইনচার্জ শান্তনু অধিকারীর দাবি, এই প্রচারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের। তাঁর মতে, এই বয়সের ভোটারদের বড় অংশ এখন সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর, ফলে প্রচারের ভাষা ও ধরনেও বদল আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শান্তনু অধিকারী বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পোস্ট। মূলত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। এখন যে বিজ্ঞাপনগুলোর ভাষা ও স্টাইল ট্রেন্ডিং, সেগুলোকেই একটু বদলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সহজে নজর কাড়ে।”
তিনি আরও জানান, এই কনটেন্ট তৈরির জন্য সিপিআইএমের (CPIM) আলাদা একটি দল কাজ করছে। প্রায় দশজন কর্মী মিলে নিয়মিতভাবে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে পোস্টার তৈরি করছেন। কারও দায়িত্ব গ্রাফিক্স ডিজাইন, কেউ কপিরাইটিং করছেন, আবার কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ দেখছেন। তাঁর কথায়, “এটা শুধু প্রচার নয়, এক ধরনের এক্সপেরিমেন্টও। আমরা দেখতে চাইছি, নতুন প্রজন্ম এই ধরনের কনটেন্ট কতটা গ্রহণ করছে এবং কতটা সাড়া দিচ্ছে।”
তৃণমূলের কটাক্ষ
তবে এই অভিনব প্রচারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। রায়গঞ্জ শহর যুব তৃণমূল সভাপতি চিরঞ্জিত দত্ত বলেন, “সামনে থেকে দেখুন বা পিছন থেকে, শূন্য শূন্যই থাকবে। যতই অভিনব প্রচার হোক, মানুষের সমর্থন নেই। মানুষ ওদের আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।”
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই ধরনের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। কম খরচে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রচারের ধরনে এই নতুন পরীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাম শিবিরও হয়তো ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের কৌশল বদলানোর চেষ্টা করছে।


