33 C
Kolkata
Monday, April 6, 2026
spot_img

ভোটের দাপটে পরীক্ষা থমকে ! প্রশ্নের মুখে সরকারি স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা !

স্নেহা পাল, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : পরীক্ষার আগের রাত মানেই চাপ, প্রস্তুতি আর টেনশন। কিন্তু রবিবার রাতে এই পরীক্ষা নিয়েই একের পর এক সিদ্ধান্ত বদলে সোনারপুরের (Sonarpur) এক নামী স্কুলে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিভ্রান্তি। শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে এই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

পরীক্ষার আগের রাতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের (Sonarpur) সরকারি স্কুল ‘আচার্য প্রফুল্ল নগর অতুলকৃষ্ণ রায় বিদ্যায়তন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ নবম ও দশম শ্রেণির পরীক্ষা ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোমবার থেকেই এই দুই শ্রেণির প্রথম অভীক্ষার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎ করে পরীক্ষার রুটিন বদলের ও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের বার্তা দেওয়া হয়।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, প্রথমে ফোনের মেসেজের মাধ্যমে পরীক্ষার রুটিন বদলের কথা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পর আবার পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়, এরপর আবার পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা আসে। এইভাবে কয়েকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে পড়ুয়ারা চূড়ান্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে।

পড়ুয়া ও অভিভাবকদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে প্রথম ও দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা একত্রে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একদিনে দুটি বিষয় এবং মোট ৮০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মত অনেকের। তাদের বক্তব্য, অল্প সময়ে এত বড় সিলেবাসের পরীক্ষা দেওয়া পড়ুয়াদের পক্ষে কঠিন হবে, বিশেষ করে মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে থাকা দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

সরকারি নির্দেশের দাবি স্কুলের

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোনামী দাস জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে সরকারি নির্দেশ রয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশ মেনে চলতেই হচ্ছে, আমাদের কিছু করার নেই।”

প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা

তবে কোন নির্দিষ্ট নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তির কথা বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের একাংশের। সোনারপুর (Sonarpur) এলাকা সহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্কুলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে শুধুমাত্র এই স্কুলেই কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনী কাজের জন্য গত কয়েকদিন ধরে স্কুল প্রাঙ্গণে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক পাঠদান ও পরীক্ষা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।

আগামী ২৩ ও ২৯ তারিখে ভোট থাকলেও, তার অনেক আগেই কেন স্কুলের স্বাভাবিক পাঠক্রম ও পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় এমন অস্থিরতা তৈরি হল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ভোট শিক্ষার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিনা , সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। হঠাৎ করে রুটিন বদল, পরীক্ষা স্থগিত এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ বাড়ছে বলেই অভিযোগ। অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রয়োজন থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা উচিত ছিল, যাতে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি না হয়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন