কোচবিহার: ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির শক্তি বাড়াতে ফের রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার বিজেপির শক্ত ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচার শুরু করলেন তিনি। এদিন কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তৃণমূলকে পুরনো কটাক্ষেই বিঁধলেন বিজেপি সুপ্রিমো। সঙ্গে যুক্ত হল সাম্প্রতিক কালিয়ায়চকের ঘটনা। কোচবিহারে কি কি বললেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)?
দেখে নিন একনজরে:
১। কালিয়াচকের হিংসা: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা একেবারে ভেঙে পড়েছে! মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা ফের তার প্রমাণ, বলেন মোদী (Narendra Modi)।
২। SIR নিয়ে বিভ্রান্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, বলে ফের তোপ দাগলেন তিনি।
৩। অনুপ্রবেশ: ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ‘অনুপ্রবেশ’। কোচবিহারের জনসভাতেও সেই কথা মনে করাতে ভোলেননি নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
৫। বাংলার সংস্কৃতি: এদিন ফের মোদীর মুখে শোনা গেল ‘বাংলা বদলে যাচ্ছে’। বাংলার সংস্কৃতি, গর্ব ক্ষতিগ্রস্ত, তা রক্ষার অঙ্গীকার এদিন ফের করেন মোদী।
৬। আগামী প্রজন্মের জন্য: বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম অস্ত্র দেশের যুব সম্প্রদায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে রাজ্যের যুব সমাজের দূরবস্থার অভিযোগে এদিন ফের ‘আসল পরিবর্তনের’ ডাক দেন তিনি।
৭। কৃষকদের হিতার্থে: চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে আলু চাষি, রাজ্যের কৃষকদের অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছে বিজেপি। এদিন কোচবিহারের জনসভা থেকেও সেই একই সুরে কৃষকদের শক্তি বাড়ানোর কথা বললেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
৮। জনগণের উদ্দেশ্যে বার্তা: বাংলার ভবিষ্যৎ বাংলার মানুষের উপর নির্ভর করছে বলে এদিনও উল্লেখ করেন মোদী। নিজের স্টাইলেই এদিনও একাধিকবার “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার” স্লোগান দেন মোদী (Narendra Modi)।
৯। তৃণমূলের বিদায়বেলা: গতবার ২০০ পার বলেও ৭৭-এই আটকে গিয়েছিল বিজেপি। এবারও সেই একই সুর পদ্ম শিবিরে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা বলছেন, তৃণমূলের বিদায়বেলা এসে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi) এদিন বলেন, “তৃণমূলের হার নিশ্চিত। বাংলার মানুষ জবাব দেবে”।
১০। গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: এই নির্বাচন বাংলার মানুষ, ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা সবকিছু নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেন মোদী (Narendra Modi)।
বলা বাহুল্য, মমতার ২ দশকের দুর্গ ভাঙতে নিজেদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে বিজেপি। তৃণমূলের শাসনামলে দুর্নীতি, তোষণ, নারী সুরক্ষা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলার মানুষ। কিন্তু সেই ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে বিজেপি আদৌ নিজেদের বাংলায় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে কিনা, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।


