29 C
Kolkata
Friday, April 3, 2026
spot_img

স্ট্র্যান্ড রোডে ১৬৩ ধারা, বন্ধ ফেরিঘাট : রাজনৈতিক সংঘাতে নাজেহাল নিত্যযাত্রী !

Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোড (Strand Road) সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ১৬৩ ধারা জারি করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিলেনিয়াম পার্ক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের স্ট্র্যান্ড রোডের (Strand Road) সিইও দফতর সংলগ্ন এলাকায় অশান্তি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু মিলেনিয়াম পার্ক ও পর্যটকদের প্রবেশই নয়, শহরের অন্যতম ব্যস্ত শিপিং জেটিটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাওড়া-কলকাতা জলপথে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

এদিকে, ৩১ মার্চ হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি নন-বেলেবল মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে CEO অফিসের সামনে জড়ো হওয়া এবং উস্কানিমূলক স্লোগান তোলার ঘটনায় এই মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুন্ডু (ওয়ার্ড ৩২) ও সচিন সিং (ওয়ার্ড ৩৬)। এছাড়া মোহাম্মদ ওয়াসিম, মইদুল, চন্দ্রকান্ত সিং ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা ও অবৈধ জমায়েতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

ঘটনাটি ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন। পরদিন ৩১ মার্চ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতরে যান। তৃণমূলের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতা প্রায় ৪০০টি ফর্ম-৬ নিয়ে দফতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, যা দলীয় কর্মীরা আটকে দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং স্ট্র্যান্ড রোড (Strand Road) এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মিলেনিয়াম পার্ক ও সংলগ্ন ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াত করা নিত্যযাত্রীরা হঠাৎ বিকল্প ব্যবস্থা না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং যানজটে জর্জরিত হচ্ছেন। অনেক অফিসযাত্রী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছেন না, আবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি বাড়ছে। বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি, কারণ তাঁদের জন্য দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের এই পথটি ছিল সবচেয়ে ভরসাযোগ্য। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন