Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান : বৃহষ্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেন টলিউড সুপারস্টার ও তৃণমূল সাংসদ দেব (Dev)। তিনি বলেন, “এই ভোট হিন্দু-মুসলিমের জন্য নয়। ভোট হবে উন্নয়ন ও সরকারী প্রকল্পের ভিত্তিতে।”
মেমারির সভা থেকে দেব (Dev) বলেন, “রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প শুধুমাত্র বাংলায় চালু হয়েছে। অন্য কোনো রাজ্যে নেই। আমাদের বিরোধীরা যখন ক্ষমতায় আসে, তখনও এসব প্রকল্প নকল করে আলাদা নামে চালু করতে পারে।” তিনি গঠনের কাজ নিয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো বড় প্রকল্পও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভব করেছেন।”
ভোটারদের সরাসরি আবেদন
তিনি ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদন করেন, “এই ভোট শুধুমাত্র মন্দির বা মসজিদের জন্য নয়। উন্নয়নের ভিত্তিতে ভোট দিন। তৃণমূল বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছে। বাংলার উন্নয়নের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিন।”
এর আগে দেব (Dev) কামারহাটি ও বরাজোড়া-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণা করেছেন। প্রতিটি সভায় তিনি তৃণমূল সরকারের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং বিজেপির নির্বাচনী পরিকল্পনাকে মূল্যায়ন করেছেন।
সম্প্রীতির বার্তা দিলেন দেব?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবের মেমারি সভায় দেওয়া বক্তব্য একটি সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে ভোট হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের জন্য নয়, বরং উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মী ভান্ডারের ভিত্তিতে হবে। এই বক্তব্য ভোটারদের মনে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে সমাজে ধর্মভিত্তিক বিভাজন ভুল এবং নির্বাচনের মূল দিক হওয়া উচিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক উন্নয়ন। এমন ধরনের বার্তা ভোটের আগে নির্বাচনী সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্য প্রাধান্য দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, দেবের মন্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি এই ভোটকে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যা বিশেষ করে বিজেপি এবং কিছু রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে। এই মন্তব্যে বোঝানো হয়েছে যে কিছু রাজনীতিবিদ ধর্মের বিভাজনকে ভোটে ব্যবহার করছেন, কিন্তু দেব তা প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়ন ও প্রকল্প-কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রচারের বার্তা দিচ্ছেন। এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।


