কলকাতা: কথায় বলে “গোদের উপর বিষফোঁড়া”! রাজ্যের শাসকদলের বয়ান, অবস্থান, পরিস্থিতি দেখে অনেকেই এখন এই কথাই বলছে। এমনিতেই তড়িঘড়ি এসআইআর (SIR), নাম বাদ, নিয়ে অসন্তুষ্ট রাজ্য সরকার। তার উপর ভোট ঘোষণা (West Bengal assembly election 2026) হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা, কমিশনারদের বদলির গেরো! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার উপর রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে অপসারণের পালা শুরু হয়। এই বিষয়েও রাজ্যকে কিছু জানানো হয়নি বলে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে শাসকদল তৃণমূল।
কমিশনের (Election Commission) এই সক্রিয়তার উপর এখন কার্যত বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ালো বুধবার রাতে মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর এই ধরণের হিংসা, বিক্ষোভ, অবরশ এমনকি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনা নজিরবিহীন! শুধু তাই নয়, বুধবার এসআইআর ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে শুরুমাত্র কালিয়াচকে দফায় দফায় বিক্ষোভই নয়, কলকাতা-শিলিগুড়ি (১২ নম্বর) জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় জনতা।
কালিয়াচক-২ বিডিও অফিস ঘেরাও করে প্রায় ৮ ঘন্টা আটকে রাখা হয় তিনজন মহিলা সহ ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে। এমনকি মধ্যরাত ১২ টার পর যখন তাঁদেরকে উদ্ধার করে গাড়িতে করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ, তখনও গাড়ির উপর হামলা করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঘটনার দৃশ্য। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। যদিও, এই ঘটনার নেপথ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যকে দায়ী করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) উপরেই দায় ঠেলেছে শাসকদল তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “পুলিশ তো বর্তমানে কমিশনের অধিনস্ত। তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরণের বিশৃঙ্খলাকে সমর্থন করে না”।
বৃহস্পতিবার সকাল মালদলের কালিয়াচকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে ঠিকই। তবে, এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিহসন। সেইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কালিয়াচকে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে ভোটের (West Bengal assembly election 2026) আগে তালিকায় ‘নাম বাদ’-এর ক্ষোভের আগুন এত সহজে নিভবে বলে মনে হয় না। নাম তোলা না হলে ফের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকার রাজনীতিতে রাজ্যের ছবি আসলে কালিমালিপ্ত হচ্ছে।


