মালদহ: ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে বুধবার রাতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মালদলের কালিয়াচকে। মোথাবাড়ি, সুজাপুর সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন উত্তেজিত জনতা। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কালিয়াচক ২-এর বিডিও অফিসের সামনেও। ওই ব্লক অফিসে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে (Judicial Officers) বিকেল ৪ টে নাগাদ ঘেরাও করে চলতে থাকে বিক্ষোভ! তাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলাও ছিলেন। প্রায় ৮ ঘন্টা আটকে থাকার পর মধ্যরাতে মুক্তি পান ওই সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। রাত ১২ টার পর তাঁদের মুক্ত করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় পুলিশ।
শাসক-বিরোধী তরজা
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক শাসক-বিরোধী তরজা। কালিয়াচকের ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কমিশনের উপর চাপিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “আইন হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষপাতি নয় তৃণমূল। বিজেপির মদতপুষ্ট কিছু দল এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। পুলিশ তো বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে”। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের উস্কানিতেই আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল! বিজেপির তরফে অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের এসআইআর নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যের ফলই আমরা দেখতে পাচ্ছি”।
রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন
ভোটের বাকি আর মাত্র ২১ দিন। চলছে আদর্শ আচরণবিধি। এরই মাঝে কালিয়াচকের এই নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন। বিডিও অফিসে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) ঘেরাও-এর ঘটনায় পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। বলা বাহুল্য, বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোথাও কোনও নৈরাজ্য বরদাস্ত করা হবে না। তেমন হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সাথে সাথেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ করছে আমজনতা। ঘটনায় শাসকদলের উস্কানি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আসছে বিজেপি। কালিয়াচকের এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর।


